এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন দ্রুত বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সফর এবং প্রায় একই সময়ে ইরানে চীনের ব্যাপক সামরিক এয়ারলিফট নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি সুপরিকল্পিত কৌশলগত বার্তা?
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসরাইলে পৌঁছান। সেখানে তিনি ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির এবং দেশটির বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এই সফরকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক।
চীনা গোয়েন্দা, সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল কুপারের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সমন্বয় জোরদার করার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করাই ছিল এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা সামরিক কার্গো বিমান ইরানের রাজধানী তেহরানে অবতরণ করেছে। এসব বিমানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম এবং সম্ভাব্যভাবে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই এয়ারলিফট ছিল ইরানের জন্য প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ, এটি চীন ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত চুক্তির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে—যেখানে জ্বালানি সরবরাহের বিনিময়ে বিপুল বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগিতার কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি জানুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক পরিবহন বিমানও অন্তত ছয়বার ইরানে যাতায়াত করেছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার এই সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসরাইলে মার্কিন জেনারেলের সফর এবং ইরানে চীনের সামরিক এয়ারলিফট—দুটো ঘটনাই আলাদা নয়। বরং এগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান ইস্যুকে ঘিরে বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে একটি নীরব কিন্তু তীব্র কৌশলগত লড়াই শুরু হয়ে গেছে।