এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
অনেক দিন অস্বীকার করার পর শেষ পর্যন্ত রাশিয়া স্বীকার করেছে যে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই তাদের গাইডেড মিসাইল ক্রুজার 'মস্কোভা' ডুবে গিয়েছিল। তবে, এই স্বীকারোক্তি প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা মুছে ফেলা হয় এবং মস্কোর সরকারি বক্তব্য আবার আগের মতো 'দুর্ঘটনা' বলে প্রচার শুরু হয়।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হওয়ার মাত্র সাত সপ্তাহ পর কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌবহরের প্রধান জাহাজ 'মস্কোভা' ডুবে যায়। ওই সময় ইউক্রেন দাবি করেছিল, তাদের 'নেপচুন' অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলের আঘাতেই জাহাজটি ধ্বংস হয়েছে।
কিন্তু রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গান গেয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল, জাহাজে আগুন লেগে গোলাবারুদ বিস্ফোরণের কারণেই এটি ডুবে গেছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল একটি 'দুর্ঘটনা'।
সম্প্রতি, মস্কোর একটি সামরিক আদালতের একটি বিবৃতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবেই এই গল্পটি বদলে যায়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা জানিয়েছে, ওই আদালত এক ইউক্রেনীয় নৌ কমান্ডারের অনুপস্থিতিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই বিবৃতিতে পরিষ্কার বলা হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে 'মস্কোভা' জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং সেটিই জাহাজ ডুবে যাওয়ার মূল কারণ।
এই হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নাবিক নিহত, ২৪ জন আহত এবং আরও ৮ জন নিখোঁজ হন। তবে রুশ সামরিক বাহিনী কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই স্বীকারোক্তি দ্রুত মুছে ফেলা রাশিয়ার তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কৌশলের এক বড় ব্যর্থতা। ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি রাশিয়া দীর্ঘদিন চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সত্যি কথা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে।
এই ঘটনায় ইউক্রেনের একটি বড় সামরিক সাফল্য এবং রাশিয়ার জন্য এক লজ্জাজনক পরাজয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।