এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০১ পিএম
গত ডিসেম্বরে আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
বিসিসিআইয়ের আশঙ্কা ছিল—আইপিএলে একজন মোস্তাফিজকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তিতেই তাকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যদি আইপিএলে একজন বিদেশি ক্রিকেটারের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ভারত কীভাবে দেবে?
এই নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়—ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন করা হোক। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এই পুরো ঘটনার পেছনে মোস্তাফিজের বিষয়টিই মূল কারণ বলে মনে করছেন ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগরা। ভারতের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“এই বছরে আইপিএলে খেলতে যাচ্ছিল মাত্র একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার, আর সে刚 চুক্তিই করেছিল। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার অর্থ হলো—যারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বা কম শক্তিশালী, তাদের ওপর ক্ষমতা দেখানো। একজন ক্রিকেট সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, এটা ছিল খুবই বাজে একটি ভুল।”
তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত এসেছে বিসিসিআই থেকে। রাজনৈতিকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে খুব একটা ভালো নয়। আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—সব জায়গাতেই নির্বাচন আসছে। বিসিসিআই যদি এমন নির্দেশ না দিত, তাহলে হয়তো মোস্তাফিজ কেকেআরের হয়ে আইপিএলে খেলতে পারত। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, ক্রিকেটীয় নয়।”
এই মন্তব্যের পর ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।