এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০১ পিএম
চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে জোর করে পাঠানোর এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমানকে এক দালাল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধের সামনের সারিতে জায়গা নিতে হয়েছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি শ্রমিকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোর করে যুদ্ধে নামানো হচ্ছে। অনেককে জেল, মারধর এমনকি মৃত্যুর হুমকি দেখিয়ে এ কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।
মাকসুদুর রহমানসহ তিন বাংলাদেশি যুবকের বয়ানে জানা যায়, মস্কো পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করানো হয়। পরে বুঝতে পারেন, সেগুলো ছিল আসলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির কাগজপত্র। এরপর তাদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে ড্রোন যুদ্ধ, অস্ত্র চালনা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
রহমান আপত্তি জানালে এক রুশ কর্মকর্তা অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাকে বলেন, "তোমাদের এজেন্টই তোমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনে নিয়েছি।" এরপর তাদের জোর করে যুদ্ধের সামনের সারিতে পাঠানো হতো। সেখানে মালামাল বহন, আহত সৈন্য উদ্ধার এমনকি মৃতদেহ তোলার মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো।
রহমানের ভাষ্য, কাজ করতে না চাইলে তাদের ১০ বছরের জেলের হুমকি দেওয়া হতো এবং মারধর করা হতো। সাত মাস পর যুদ্ধে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারিত হয়েছেন, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তারা শতাধিক বাংলাদেশিকে রুশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ করতে দেখেছেন।
এপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত, নেপাল, এমনকি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও একই কৌশলে যুদ্ধে নিয়োগ করা হচ্ছে, যা এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করার ভয়ঙ্কর এক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।
আরেকজন ভুক্তভোগী মোহান মিয়াজি জানান, তাকে ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির কথা বলে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়। পরে তাকেও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। আদেশ না মানলে তাদের নির্যাতন করা হতো। ভাষা না বোঝার কারণে ভুল করলে নির্মম মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।