এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকট নিয়ে এবার বিশ্বনেতাদের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করলেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব থাকা গার্দিওলা এবার শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সরাসরি ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বার্সেলোনায় ফিলিস্তিনের মানুষের সহায়তার জন্য আয়োজিত একটি চ্যারিটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গার্দিওলা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্সেলোনায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের প্রতীক কেফিয়াহ বা ফিলিস্তিনিয়ান স্কার্ফ পরে বক্তব্য দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই কোচ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সালাম জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।
বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে গার্দিওলা তাদের ‘কুৎসিত কর্তৃপক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা নিজেরা নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে বসে নিরীহ মানুষের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষায়, “শক্তিশালীরা কাপুরুষ, কারণ তারা অন্যদের হত্যা করতে পাঠায়, আর নিজেরা ঘরে বসে শীতে গরমে আর গরমে এয়ার কন্ডিশনের আরামে থাকে।”
গাজার শিশুদের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে গার্দিওলা বলেন, “যখন দেখি একটি শিশু গত দুই বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে তার মায়ের জন্য কাঁদছে, তখন মনে হয় আমরা তাদের একা, পরিত্যক্ত আর অবহেলিত করে রেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় কল্পনা করি সেই শিশু আমাদের বলছে—‘তোমরা কোথায়? এসে আমাদের সাহায্য কর।’ কিন্তু আমরা এখনো সেটা করিনি।”
মাত্র তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পান গার্দিওলা। শেষ বক্তব্যে তিনি মানবিক বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি বিশ্বকে দেখাতে যে আমরা দুর্বলদের পাশে আছি—এক্ষেত্রে ফিলিস্তিন, আর সব ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষের জন্য।”
দীর্ঘদিন ধরেই নিপীড়িত মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে সোচ্চার পেপ গার্দিওলা। এর আগে ২০১৮ সালে কারাবন্দী কাতালান নেতাদের সমর্থনে মাঠে হলুদ রিবন পরায় ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বলছে, নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষ এবং অনাহার ও রোগে মৃত্যুর হিসাব ধরলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।