এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে রক্তঝরা চলছে টানা দুই দিন। নিরাপত্তা বাহিনীর একের পর এক বড় অভিযানের মুখে পড়ে মারা গেছে প্রায় ১০০ মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অন্তত ৩৭ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এর ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় এই প্রদেশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জন। তবে এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশেরও ১০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
বেলুচিস্তানের ১২টি জায়গায় একসঙ্গে হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছিল ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে একটি গোষ্ঠী। কিন্তু পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা সময়মতো সজাগ হয়ে সব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তাদের কথায়, এই প্রতিরোধ অভিযানে ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে এই নামে চিহ্নিত করে আসছে এবং অভিযোগ করছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমর্থনেই তারা কাজ করছে।
রেডিও পাকিস্তানের খবর বলছে, এখনও বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এই অভিযানে আরও সন্ত্রাসী হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলছে বলে জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, গত দুদিনে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৭০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। তাঁর বক্তব্য, "মনোবল ভেঙে পড়ায় সন্ত্রাসীরা সকালে একাধিক স্থানে হামলার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমাদের সাহসী পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) যৌথ অভিযানে তা প্রতিহত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আরও ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।"
এই সহিংসতার জেরে কোয়েটা, সিবি এবং চামান এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও সাধারণ মোবাইল কল চালু রয়েছে।
আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে বেলুচিস্তানের সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কোয়েটা ট্রমা সেন্টার ও কোয়েটা সিভিল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক মোতায়েন করা হয়েছে।
এর মধ্যেই আলাদা একটি ঘটনায়, বেলুচিস্তানের নাসিরাবাদ জেলার রেললাইনের ওপর থেকে সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার আসাদুল্লাহ নাসির জানান, রাবি পুল এলাকার কাছে রেললাইনে একটি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে রেললাইন সন্ত্রাসীদের নিয়মিত টার্গেট। গত এক বছরেই জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। সবশেষ গত সোমবার রাতে সিন্ধু থেকে বেলুচিস্তানগামী রেলপথে বিস্ফোরণে কোয়েটাগামী জাফর এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পিছনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠন ও তাদের মাজিদ ব্রিগেডকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। সন্ত্রাস-সম্পর্কিত মৃত্যু বেড়েছে ২১ শতাংশ। ওই বছর পাকিস্তানজুড়ে মোট ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড করা হয়।