ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

জাতিসংঘের আর্থিক ধসের মুখে দাঁড়িয়ে পড়া! গুতেরেসের জরুরি চিঠি: চাঁদা না দিলে জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

জাতিসংঘের আর্থিক ধসের মুখে দাঁড়িয়ে পড়া! গুতেরেসের জরুরি চিঠি: চাঁদা না দিলে জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ!

জাতিসংঘ এখন সত্যিই বিপদে! মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাফ বলে দিয়েছেন, সংস্থাটি ‘আর্থিক ধসের’ একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে। সদস্য দেশগুলোর বকেয়া চাঁদা আর কিছু পুরনো নিয়মের কারণে এই ভয়ংকর সংকট। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গুতেরেস সব ১৯৩টি সদস্য দেশের কাছে একটা জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নিয়মিত খরচ চালানোর টাকা শেষ হয়ে যেতে পারে। খবর আল জাজিরা, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার।

চিঠিতে গুতেরেস সদস্য দেশগুলোকে তাদের বার্ষিক চাঁদা পুরোপুরি আর সময়মতো দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। না হলে জাতিসংঘের আর্থিক নিয়মকানুন পুরোপুরি বদলাতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, “চাঁদা দেওয়ার বিষয়টা এখন ‘এখনই না হলে কখনোই না’ পর্যায়ে চলে এসেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আগের বছরগুলোর মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো নগদ টাকা আমাদের কাছে নেই। মহাসচিব প্রতি বছরই এই বিষয়ে জোর দিয়ে সতর্ক করে আসছেন।”

গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিলেও সবাই বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগিতা এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোতে ওয়াশিংটনের অর্থায়ন কমানোর পথে হাঁটছেন। সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটা নতুন সংস্থা চালু করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে পুনর্গঠনের কাজ করতে চান তিনি। পরে বিশ্বের অন্যান্য সংকটেও এই বোর্ডের মাধ্যমে ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা জাতিসংঘকে সাইডলাইনে ঠেলে দিতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো সতর্ক করে বলেছেন, “স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হলে এটা একটা ‘পে-টু-প্লে’ ক্লাবের মতো হয়ে যাবে। ট্রাম্পকে চেক দেওয়ার বদলে সরকারগুলোর উচিত জাতিসংঘ আর অন্যান্য সংস্থাকে রক্ষা করে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।”

জাতিসংঘের চাঁদা নির্ধারণ হয় দেশের জিডিপি, ঋণসহ অন্যান্য বিষয় দেখে। মূল বাজেটের ২২ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, তারপর চীনের ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষে বকেয়া চাঁদা রেকর্ড ১.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন গুতেরেস। কোন দেশগুলো গড়িমসি করছে, সেটা তিনি বলেননি।
এই সংকট থেকে বাঁচতে সদস্য দেশগুলোকে এখনই চাঁদা দিতে হবে, নয়তো জাতিসংঘের কাজকর্ম থমকে যেতে পারে। বিশ্বের শান্তি-স্থিতিশীলতার জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ!