এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যেমন নতুন সংকট তৈরি করছে, তেমনি চলমান সংঘাতগুলোর সমাধান প্রক্রিয়াকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লে ইউক্রেন সংকট নিরসনের প্রচেষ্টাও ভেস্তে যেতে পারে।
আগামী রোববার আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার টানাপোড়েনের কারণে সেই বৈঠক এখন বড় ঝুঁকিতে—এমন উদ্বেগ শনিবার প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে তার এই শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি আবুধাবিতেই রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তি নিয়ে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় রোববারের বৈঠকের দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। জেলেনস্কির ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যারা আলোচনায় অংশ নেবেন, তারা সবাই ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। ইরানে হামলার মতো কিছু ঘটলে এই বৈঠক আর হবে না।”
মস্কো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই আলোচনা সফল হলে আবুধাবির বৈঠকে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইউক্রেন সংকটের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা শান্ত রয়েছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। এর একটি বড় কারণ হলো ইউক্রেনে চলমান তীব্র শীত, যেখানে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পাশাপাশি ট্রাম্প রাশিয়াকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানালে মস্কো তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউই নতুন কোনো আক্রমণ চালায়নি। রাশিয়া হামলা বন্ধ রাখলে ইউক্রেনও একই অবস্থান নেবে। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।