এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:০২ পিএম
মার্কিন সরকার জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এতে ব্রিটেনের তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বারবার উঠে এসেছে—প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু (এখন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর), তার প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন (ফার্গি) এবং যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন। এপস্টাইনকে ব্রিটিশ সরকার ও রাজপরিবারের কাছাকাছি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
এই নতুন ফাইলগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। এতে তিনজনের ওপর চাপ বেড়েছে—তাদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হবে এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের আরও দূরে রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে ম্যান্ডেলসন—যিনি রবিবার লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন—হাউস অফ লর্ডস থেকে অবসর নেওয়ার আহ্বানের মুখে পড়েছেন।
প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু বছরের পর বছর এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। ২০১৯ সালে বিবিসির সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ২০০৮ সালে এপস্টাইন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে পতিতাবৃত্তির জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১০ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কিন্তু গত বছরের ইমেলগুলো এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে—২০১১ সালে অ্যান্ড্রু আবার যোগাযোগ করেছেন, “ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে” বলেছেন। এরপর রাজা চার্লস তার রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেন এবং উইন্ডসরের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
নতুন নথিতে তারিখবিহীন তিনটা ছবি উঠে এসেছে—অ্যান্ড্রু একজন মহিলার (মুখের রঙ পরিবর্তন করা) ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন, মহিলা মেঝেতে শুয়ে। দুটো ছবিতে অ্যান্ড্রু তার পেট ও কোমর স্পর্শ করছেন; তৃতীয়টায় চার পায়ে হেলান দিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে। ছবিগুলো কখন-কোথায় তোলা তা স্পষ্ট নয়, কোনো ক্যাপশন বা প্রেক্ষাপত্র নেই। এগুলো কোনো অন্যায়ের ইঙ্গিত দেয় না।
আগের একটা ছবিতে (২০০১) অ্যান্ড্রুকে এপস্টাইনের প্রাক্তন বান্ধবী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ও ভার্জিনিয়া গিফ্রের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। গিফ্রে তার স্মৃতিকথায় অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২২ সালে গিফ্রের দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার দিয়েছেন বলে জানা যায়।
নতুন নথিতে ২০১০ সালের আগস্টের একটা ইমেল আদান-প্রদান আছে—এপস্টাইন অ্যান্ড্রুকে লন্ডনে ডিনারে একজন “বন্ধু” (নাম পরিবর্তন করা) সঙ্গে দেখা করতে আমন্ত্রণ জানান। অ্যান্ড্রু “আনন্দিত হবেন” বলে উত্তর দেন। এপস্টাইন পরে মহিলাকে ২৬ বছরের রাশিয়ান হিসেবে বর্ণনা করেন—“চতুর, সুন্দরী, বিশ্বস্ত”।
নভেম্বরে মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটি অ্যান্ড্রুকে সাক্ষ্য দিতে বলেছিল। স্টারমার শনিবার বলেন, “যাদের কাছে তথ্য আছে তাদের শেয়ার করতে প্রস্তুত থাকা উচিত। শিকার-কেন্দ্রিক হতে হলে এটা করতে হবে।”
সারা ফার্গুসন নতুন ফাইলে বেশ কয়েকবার উল্লেখিত, কিন্তু কোনো অন্যায়ের ইঙ্গিত নেই। গত বছর কয়েকটা দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল কারণ পুরনো নথিতে তিনি এপস্টাইনকে “সর্বোচ্চ বন্ধু” বলেছিলেন। তার মুখপাত্র বলেছিলেন, সম্পর্কের জন্য অনুতপ্ত।
নতুন নথিতে ২০০৯ সালের মার্চে ফার্গুসন এপস্টাইনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইমেল পাঠান—ফ্যাশন ও মিডিয়া আউটলেটগুলো তার সঙ্গে কাজ করতে চায়। “আপনার মধ্যাহ্নভোজের পর শক্তি বেড়েছে। বন্ধুর দয়া আমাকে স্পর্শ করেছে। জেফ্রিকে ধন্যবাদ, যিনি আমার কাঙ্ক্ষিত ভাই।”
২০১০ সালের জানুয়ারিতে: “তুমি একজন কিংবদন্তি। তোমার উদারতা ও দয়ার জন্য কৃতজ্ঞ। আমি তোমার সেবায় আছি। শুধু আমাকে বিয়ে করো।”
ইমেল থেকে মনে হয় এপস্টাইন ফার্গুসনের নাম মুছে ফেলতে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। একটা ইমেলে তিনি সিট্রিক অ্যান্ড কোম্পানির চেয়ারম্যান মাইক সিট্রিককে লেখেন ফার্গির জন্য বিবৃতি তৈরি করতে। সিট্রিক বলেছেন, তিনি ফার্গুসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি।
২০০৯ সালের অক্টোবরে ফার্গুসন এপস্টাইনকে লেখেন, ভাড়ার জন্য জরুরি ২০,০০০ পাউন্ড দরকার—বাড়িওয়ালা টাকা না পেলে সংবাদপত্রে যাবে বলে হুমকি দিয়েছে।
এই ফাইলগুলো ব্রিটেনের রাজপরিবার ও রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সবাই এখন দেখছে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়!