ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

হরমুজে উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্ত, ইঞ্জিন বন্ধের নির্দেশে থমকে গেল মার্কিন ট্যাংকার, পাশে যুদ্ধজাহাজ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

হরমুজে উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্ত, ইঞ্জিন বন্ধের নির্দেশে থমকে গেল মার্কিন ট্যাংকার, পাশে যুদ্ধজাহাজ

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি—যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাস (এলএনজি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। সেই স্পর্শকাতর জলপথেই এবার ঘটল এক রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে (ট্যাংকার) থামতে নির্দেশ দেয় ইরানের কয়েকটি সশস্ত্র ছোট নৌকা।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানায়, স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের ট্যাংকারটি চলার সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর ছয়টি ছোট সশস্ত্র নৌকা হঠাৎ কাছাকাছি চলে আসে। নৌকাগুলো তিন জোড়া করে জাহাজটির চারপাশে অবস্থান নেয়। এরপর রেডিও বার্তায় ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেনকে ‘ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকতে’ বলা হয়।

তবে ভ্যানগার্ড টেকের দাবি, ট্যাংকারটি থামেনি। বরং গতি বাড়িয়ে আগের পথেই এগিয়ে যেতে থাকে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ট্যাংকারটির পাশে এসে পাহারা দিয়ে সেটিকে নিরাপদে এগিয়ে নেয়।

এর আগে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সতর্কতা সংস্থা ইউকেএমটিও ঘটনাটির কথা নিশ্চিত করলেও জাহাজ ও নৌকাগুলো কোন দেশের—তা স্পষ্ট করেনি।

অন্যদিকে, ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, একটি জাহাজ অবৈধভাবে ইরানের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় প্রয়োজনীয় অনুমতি দেখাতে বলা হয়েছিল। সতর্কবার্তা দেওয়ার পর জাহাজটি ওই এলাকা ছেড়ে সরে যায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কমান্ডার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে এমন কড়া সতর্কতা ইরানের সার্বভৌম জলসীমা ও নৌ-নিরাপত্তা রক্ষার বার্তা—বিশেষ করে যখন এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—চাপ ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি যত বাড়বে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনাও তত বাড়বে। আর তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছে, নিজেদের জলসীমা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।