ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

নতুন নথিতে চাঞ্চল্য জেফরি এপস্টেইনের অর্থে ইসরায়েলি সামরিক সংস্থার যোগসূত্র প্রকাশ্যে এল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

নতুন নথিতে চাঞ্চল্য জেফরি এপস্টেইনের অর্থে ইসরায়েলি সামরিক সংস্থার যোগসূত্র প্রকাশ্যে এল

মার্কিন অর্থদাতা ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন—এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশ করা নথিতে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াত অর্থদাতা ও সাজাপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত ছিল, নতুন প্রকাশিত নথিগুলো তার আরও স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে। এসব কাগজপত্রে ইসরায়েলি সামরিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের অবমুক্ত করা ২০০৫ সালের এফবিআই ও আইআরএস রেকর্ড অনুযায়ী, এপস্টেইনের সি.ও.ইউ.কিউ ফাউন্ডেশন থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা “ফ্রেন্ডস অব দ্য ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস” (এফআইডিএফ)-কে ২৫ হাজার ডলার অনুদান দেওয়া হয়। এই সংস্থাটি ইসরায়েলি সেনাদের কল্যাণ ও সামরিক অবকাঠামোর জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০০৮ সালে এপস্টেইন একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনও করেছিলেন।

একই নথিতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইন জিউস ন্যাশনাল ফান্ড (জেএনএফ)-এ ১৫ হাজার ডলার অনুদান দেন। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য জমি সংগ্রহের কাজ করে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে পশ্চিম তীরে এসব বসতি অবৈধ বলে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা মত দিয়ে আসছে।

এছাড়াও নথিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জিউস উইমেনকে ৫ হাজার ডলারসহ আরও কয়েকটি ছোট অঙ্কের অনুদানের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত কাগজপত্রে এফবিআইয়ের এক তথ্যদাতার বরাতে আরও কিছু বিতর্কিত দাবি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্ভাব্য যোগাযোগ থাকতে পারে। এমনকি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সময় তিনি ‘ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংযোগে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন’—এমন গুঞ্জনের কথাও নথিতে উঠে এসেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মার্কিন কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। জীবদ্দশায় বিপুল সম্পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। নতুন প্রকাশিত এই নথিগুলো সেই সম্পর্কের বিস্তৃতি নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।