এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বুধবার দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য লড়াই। আহমেদাবাদে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে মূল খেলা থেকে শুরু করে দুই দুইটি সুপার ওভার—শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
সমতায় শেষ মূল ম্যাচ
নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই তোলে সমান ১৮৭ রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারেও থামেনি নাটক—দুই দলই করে ১৭ রান। ফলে আবারও টাই! বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে মিলার-স্টাবস ঝড়
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টিয়ান স্টাবস। আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের করা সেই ওভার থেকে তারা তুলে নেন ২৩ রান। ফলে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ২৪ রানের কঠিন লক্ষ্য।
আফগানদের লড়াই, তবুও শেষরক্ষা হয়নি
২৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। প্রথম বল ডট করার পর দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যান মোহাম্মদ নবি। তবে হাল ছাড়েননি রহমানুল্লাহ গুরবাজ। কেশব মহারাজকে টানা তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন তিনি।
একটি ওয়াইডের পর শেষ বলে গুরবাজ ক্যাচ দিলে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েই। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরে যায় গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। এই হারে তাদের পরের রাউন্ডে ওঠার আশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল।
প্রথম সুপার ওভারেও ছিল আগুনঝরা ব্যাটিং
এর আগে প্রথম সুপার ওভারে লুঙ্গি এনগিদির প্রথম দুই বলেই চার ও ছক্কা মারেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। এরপর দুটি সিঙ্গেল ও আরেকটি চার মিলিয়ে ১৭ রান তোলেন তিনি। আফগানিস্তান তখন ছিল সুবিধাজনক অবস্থানে।
১৭ রান রক্ষায় ফজল হক ফারুকির হাতে বল দেন রশিদ খান। ডেভিড মিলার প্রথম বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর ডিওয়াল্ড ব্রেভিস মারেন বিশাল এক ছক্কা। তবে তৃতীয় বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ট্রিস্টিয়ান স্টাবস ইয়র্কার থেকে চার মারেন এবং শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আবার টাই করেন।
তারপরই শুরু হয় দ্বিতীয় সুপার ওভারের নাটকীয় অধ্যায়, যেখানে শেষ হাসি হাসে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ক্রিকেটপ্রেমীরা বলছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর ম্যাচ—যেখানে প্রতিটি বলেই বদলে গেছে সমীকরণ।