এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর জবাবে এবার সরাসরি কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। সেখানে খামেনি লেখেন, “আমেরিকানরা বারবার বলছে তারা ইরানের দিকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম। কিন্তু সেই যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই জাহাজটিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে।”
তার এই বার্তা ইতোমধ্যে ৩০ লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আলোচনার মাঝেই কড়া অবস্থান
খামেনির এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন জেনেভায় ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসেছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন নতুন চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো সমঝোতা না হলে সেটি ইরানের জন্য “খুবই খারাপ দিন” হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি প্রদর্শন
গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের নিমিটজ-ক্লাস পারমাণবিক চালিত সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। পরে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকেও এই অঞ্চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী এলাকায় গুলি বর্ষণসহ সামরিক মহড়া চালায় এবং ওমান সাগরের কাছে রুশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া করে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল—হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা। ১৯৮০-এর দশকের পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, চাইলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে তারা।
সুপারক্যারিয়ার কতটা অজেয়?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুপক্ষের হামলায় কোনো মার্কিন সুপারক্যারিয়ার ডোবার ঘটনা ঘটেনি। ২০০৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনী নিজেরাই ইউএসএস আমেরিকা ডুবিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালায়। বিশাল এই জাহাজটিকে ডুবাতে টানা চার সপ্তাহ বোমাবর্ষণ করতে হয়েছিল।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি সুপারক্যারিয়ার ডুবাতে না পারলেও তাদের উন্নত ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক কৌশল মার্কিন বাহিনীর বড় ক্ষতি করতে সক্ষম। বিশেষ করে সুপারক্যারিয়ারের আশপাশে থাকা তুলনামূলক কম সুরক্ষিত জাহাজগুলো ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ইউক্রেন যেভাবে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ফ্ল্যাগশিপ ‘মস্কভা’ ডুবিয়েছিল, তেমন কৌশল প্রয়োগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, কথার লড়াই থেকে বাস্তব সংঘাত—উত্তেজনার পারদ যে ক্রমেই বাড়ছে, তা স্পষ্ট। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—আলোচনার টেবিল কি পরিস্থিতি শান্ত করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে?