ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের মাথায় ইরানে হামলার আইডিয়া! কিন্তু তেহরান শান্তিপূর্ণ পথেই অটল, চাপে পড়ল আমেরিকা!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ট্রাম্পের মাথায় ইরানে হামলার আইডিয়া! কিন্তু তেহরান শান্তিপূর্ণ পথেই অটল, চাপে পড়ল আমেরিকা!

ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরাতে দেশটির ওপর সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেই এই কথা স্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত হামলার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি মনে হয় বলতে পারি যে, আমি এটি বিবেচনা করছি।” তবে এই হামলা কীভাবে হবে বা কোন ধরনের হবে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

অন্যদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরেনি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে জেনেভায় হয়ে যাওয়া আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো শর্ত দেয়নি। ইরানও তাদের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করার কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “আমরা সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের কোনো প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও পুরোপুরি বন্ধ করতে বলেনি। এখন আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হলো—কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ থাকবে।”

তিনি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ—এটা প্রমাণ করতে কিছু প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে ইরান সংঘাত চায় না, বরং সম্মানজনক কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটতে চায়।

মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের কাছে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় না বললেও আরাঘচি বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা একটা খসড়া প্রস্তাব দেব এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা শুরু হতে পারে।”
ইরান-আমেরিকা টানাপোড়েনে এখন নতুন মোড়। ট্রাম্পের হামলার ভাবনা নাকি কূটনীতির জয় হবে—সময়ই বলবে!