এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ইউরোপের বাজারে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ খেজুরের আসল উৎস গোপন করে অন্য দেশের নাম ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা এই কৌশলকে বলছেন ‘ডেড লন্ডারিং’—অর্থাৎ খেজুরের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে পাচারের মতো করে বাজারজাত করা।
অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত খেজুর সরাসরি ‘ইসরাইলি পণ্য’ হিসেবে না দেখিয়ে নেদারল্যান্ডস, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করানো হচ্ছে। লক্ষ্য—বয়কট এড়ানো এবং বাজার ধরে রাখা।
বয়কট এড়াতে নতুন কৌশল
বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর বয়কট আন্দোলনের মুখে ইসরাইলি রফতানিকারকরা এখন সরাসরি ‘ইসরাইলি পণ্য’ না লিখে অন্য দেশের লেবেল ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন শিল্প প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ইউরোপের বড় বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
বিলিয়ন ডলারের বাজার
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে খেজুরের বাজারের আকার ছিল প্রায় ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজার ৫৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বিশ্বে খেজুর উৎপাদনে মিশর, সৌদি আরব ও ইরান শীর্ষে রয়েছে। তবে প্রিমিয়াম ‘মেডজুল’ খেজুর রফতানিতে ইসরাইল শক্ত অবস্থানে থাকলেও সেখানে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
ইসরাইল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রফতানি করে, অথচ তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে উৎপাদন হয় মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন। অর্থাৎ, রফতানির প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত বসতি এলাকা থেকে।
আগেও ধরা পড়েছে
২০১৪ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অন্তত ২০ টন খেজুর জব্দ করেছিল, যেগুলো ‘ফিলিস্তিনি পণ্য’ হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।
২০১৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি আইনি সিদ্ধান্তে জানায়, ইসরাইলি বসতির পণ্যের গায়ে স্পষ্ট লেবেল থাকা বাধ্যতামূলক।
তবুও অভিযোগ রয়েছে, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সে বিক্রি হওয়া প্রায় অর্ধেক খেজুরই ইসরাইলি উৎসের হলেও প্যাকেজিং বা পুনঃরফতানির সময় সেই উৎস গোপন করা হয়।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিনের নাম ব্যবহার করে ইউরোপের বাজারে খেজুর বিক্রির এই কৌশল নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালা, ভোক্তা অধিকার এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে।