এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বিস্ফোরক! প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাই বলে দিলেন, দু'বার সমঝোতার প্রস্তাব গিয়েছিল ইমরানের কাছে—তার পরেই যা ঘটল, তোলপাড় পাকিস্তান!
পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খানের সঙ্গে গোপন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছিল শাহবাজ শরিফের সরকার—অন্তত এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ইসলামাবাদের রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সব জায়গায় শুরু হয়ে গেছে তুমুল বিতর্ক।
বুধবার এক অনুষ্ঠানে রানা সানাউল্লাহ জানান, দু'বার ইমরান খানের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সরকারের পাঠানো দূতদের ফিরিয়ে দিয়েছেন ইমরান। তিনি বলেন, "আমরা ইমরানের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান চাই। কিন্তু তিনি তা চান না।"
সানাউল্লাহ আরও জানান, প্রথম সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। সে সময় মন্ত্রী মহসিন নকভি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর ইমরানের কাছে সরকারের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তি মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। তবে ইমরান প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে চুক্তি থেকে সরে আসেন বলে দাবি সানাউল্লাহর। তাঁর মতে, আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ইমরান এই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সানাউল্লাহর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সরকারি শিবিরে। বিষয়টি অস্বীকার করে দ্রুত বিবৃতি দেন সরকারের মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সরকার তাঁকে কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে—এমন খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
কিন্তু বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকারের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার বক্তব্য এবং সরকারি অস্বীকার—এই দুই বিপরীত অবস্থান নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। সরকার যদি সত্যিই সমঝোতার চেষ্টা না করে থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করলেন কেন? নাকি সত্যিই গোপনে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল, যা পরে চাপে পড়ে অস্বীকার করছে প্রশাসন?
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের আগস্টে লাহোর থেকে ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তিনি তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। পরিবার ইসলামাবাদের হাসপাতালে তাঁর উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে।
এদিকে, ইমরানের সমর্থকরা এই ঘটনাকে সরকারের 'দ্বৈত নীতি' বলে অভিহিত করেছেন। পিটিআইয়ের এক নেতার ভাষায়, "একদিকে তারা আদালতে ইমরানকে অপরাধী প্রমাণের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে গোপনে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে তারা জানে ইমরানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ভিত্তিহীন।"
সরকারের এই গোপন প্রস্তাব ও তার পরবর্তী অস্বীকার—পাকিস্তানের অস্থির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার পালা, এই বিতর্ক কি ইমরানের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে, নাকি সরকারের উপর আরও চাপ তৈরি করে?