এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বিস্ফোরক! জাতিসংঘে ইরানের কড়া বার্তার পরপরই কাতার-বাহরাইন থেকে সেনা সরাচ্ছে মার্কিন বাহিনী—ভয় না কৌশল? চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে!
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন লেগে যেতে আর বেশি দেরি নেই। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেতেই গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কাতারের আল উবেইদ বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের ঘাঁটি থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে । আল উবেইদ ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত বছর জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় এই ঘাঁটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান ।
ঠিক এমন সময়ে এই সেনা সরিয়ে নেওয়ার খবর এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু চুক্তির জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন । ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য 'সীমিত সামরিক হামলা'-র কথাও ভাবছেন ।
কিন্তু ঠিক এর আগেই ইরান জাতিসংঘে এক কড়া চিঠি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা যদি কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও স্থাপনা তাদের কাছে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বিবেচিত হবে । ইরানের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু কেউ আগ্রাসন চালালে তার জবাব দেওয়া হবে আত্মরক্ষার অধিকারে। আমেরিকাকে এর অপ্রত্যাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির পুরো দায় নিতে হবে" ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই হুঁশিয়ারি আমেরিকাকে ভাবিয়েছে। কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়াকে অনেকেই ইরানের শক্ত অবস্থানের জবাবে পেন্টাগনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন । তবে সেনা সরানো হলেও পুরোপুরি ঘাঁটি খালি করা হচ্ছে না। বরং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে বাকি সেনাদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে পেন্টাগন ।
এদিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনটি 'ভুয়া' এবং কাতার বা বাহরাইন থেকে কোনো সেনা সরানো হয়নি । কিন্তু পেন্টাগনের কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে আটটি দেশের ১৩টি ঘাঁটিতে । ইরান যদি যুদ্ধ বাঁধায়, তাহলে এই বিপুল সেনা থাকবে সবচেয়ে বড় টার্গেট। আর সেটা বুঝেই হয়তো আগেভাগেই সতর্ক হচ্ছে পেন্টাগন। মার্কিন বিশ্লেষক ক্যাথরিন টম্পসন বলেছেন, পেন্টাগন মনে করছে পরবর্তী যুদ্ধ গতবারের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়ে অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, আর ইরানের জবাব আমেরিকার ঘাঁটিগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে ।
এখন দেখার পালা, ট্রাম্প কি সত্যিই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, নাকি ইরানের এই কঠোর বার্তা ও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা যুদ্ধ ঠেকানোর পথ তৈরি করে?