এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
পবিত্র রমজান মাসেও মাইক নিষিদ্ধ! সেহরি-ইফতারের সময় আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মুসলিমদের মনে ক্ষোভের আগুন ধরাল উত্তরপ্রদেশ সরকার
ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অটল থাকল। পবিত্র রমজান মাসেও মসজিদের লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। ফলে সেহরি ও ইফতারের সময় রোজাদারদের ডাকার জন্যও মাইক ব্যবহার করা যাবে না। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের বিধানসভায় এই মর্মে স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধানসভায় সুরেশ কুমার খান্না সাফ জানিয়ে দেন, রমজান মাসেও রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মসজিদে লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি প্রশাসন।
এর আগে সেহরি ও ইফতারের সময় মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক কামাল আখতার। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, অন্তত সেহরি ও ইফতারের সময় মসজিদ থেকে সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে রোজাদাররা উপকৃত হন। কিন্তু সেই আবেদন আমলে নেওয়া হয়নি।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রমজান মাসে সেহরির সময় রোজাদারদের জাগানোর জন্য মসজিদের মাইকের ওপর অনেকেই নির্ভর করেন। সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
রমজান মাস মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। এই মাসে ভোররাতে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। আর এই সেহরির সময় জানান দেওয়ার জন্য মসজিদের মাইক একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনোভাবেই লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একই নিয়ম কতটা কঠোরভাবে পালন করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সমাজবাদী পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এটি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এখন দেখার পালা, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি লড়াই হয় কি না এবং আগামী দিনে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসে কি না।