ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

যে রহস্য ট্রাম্পকেও ভাবিয়েছে! এত চাপের পরও কেন মাথা নত করেনি ইরান?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

যে রহস্য ট্রাম্পকেও ভাবিয়েছে! এত চাপের পরও কেন মাথা নত করেনি ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক চাপ ও হুমকির পরও কেন ইরান এখনো নতি স্বীকার করেনি—এই প্রশ্নই এবার তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ট্রাম্প অবাক হয়ে জানতে চেয়েছেন, পুরো অঞ্চলে যখন মার্কিন নৌ ও সামরিক বাহিনীর বিশাল শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে, তখনও কেন তেহরান কোনোভাবেই নতি স্বীকার করছে না।

উইটকফ বলেন, "আজ সকালে প্রেসিডেন্ট আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আমি 'হতাশ' শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ তিনি জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবে তিনি কৌতূহলী—কেন তারা এখনো নতি স্বীকার করেনি।" তিনি 'আত্মসমর্পণ' শব্দটি সরাসরি ব্যবহার না করলেও, তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল ইরান তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

উইটকফ আরও ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন চাইছে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করুক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং এর প্রমাণ হিসেবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের পরিকল্পনা তুলে ধরুক। কিন্তু ইরান এখন পর্যন্ত সেই পথে হাঁটতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে, জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু 'দিক-নির্দেশনামূলক নীতিমালা' নিয়ে একমত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রশ্ন ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলে ফাটল ধরেছে। ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, আঞ্চলিক প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ শক্ত ভিত—সবকিছু মিলিয়েই তারা এত চাপের পরও টিকে আছে। ট্রাম্প নিজেই যখন এই শক্তির রহস্য জানতে চাইছেন, তখন এটা স্পষ্ট যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

এখন দেখার পালা, ট্রাম্প কি ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়াবেন, নাকি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবেন? তবে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং তাদের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় রয়েছে।