এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ক্রিকেটে কখনো কখনো পরিসংখ্যানই হয়ে ওঠে বড় আলোচনার বিষয়। আইসিসি টুর্নামেন্টের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এক অদ্ভুত মিল—অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেই যেন খুলে যায় পাকিস্তানের ভাগ্যের দরজা! এবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই পুরোনো সমীকরণ ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকরা।
ইতিহাস যা বলছে
পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তিনটি বড় আইসিসি শিরোপা জিতেছে।
প্রথমটি ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ—অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ইমরান খান-এর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
দ্বিতীয় শিরোপা আসে ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেবারও অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ট্রফি জেতে পাকিস্তান।
তৃতীয় সাফল্য ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। সেই আসরেও অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্বেই থেমে যায়। আর ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে পাকিস্তান।
আবারও কি মিলছে সমীকরণ?
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্বেই ছিটকে গেছে Australia national cricket team। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের দল। ফলে আবার আলোচনায় পুরোনো সেই ‘সমীকরণ’।
অন্যদিকে Pakistan national cricket team গ্রুপপর্বে চার ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে সুপার এইটে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।
সামনে কঠিন পরীক্ষা
২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া আসরে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল করে মোট আটটি দল উঠেছে সুপার এইটে। ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে সেরা আটের লড়াই।
গ্রুপ ওয়ানে রয়েছে ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ টুতে আছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। অর্থাৎ সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো হতে পারে নির্ধারণী। শ্রীলঙ্কাও চমক দেখাতে পারে যেকোনো দিন।
পরিসংখ্যান সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বটে। তবে শিরোপা জিততে হলে মাঠে দিতে হবে ধারাবাহিক, নির্ভুল ও সাহসী পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়ার বিদায় শুভ সংকেত হতে পারে, কিন্তু সেটি সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। ইতিহাস কি আবারও নিজের পুনরাবৃত্তি করবে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।