এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
চমক! নিহতদের ৪০তম দিনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠান বিক্ষোভে রূপ নিল, সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান, সংঘর্ষে রক্তক্ষরণ
ইরানের রাজপথ আবারও উত্তপ্ত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত শোক র্যালি হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। সম্প্রতি সরকারি দমনপীড়নে নিহতদের ৪০তম দিনের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' ধ্বনিতে ফেটে পড়েন ।
বার্তা সংস্থা এএফপি যেসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে, তাতে দেখা যায়, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। একপর্যায়ে উপস্থিত সরকার সমর্থকদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিড়ের মধ্যে লোকজন ফারসি ভাষায় 'নির্লজ্জ' বলে চিৎকার করছেন ।
বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর ফুটেজেও দেখা গেছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন এবং তাদের অনেকে মাস্ক পরে আছেন। সেখানে একদল লোক ইরানের পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁরা মাস্ক পরা অন্য একদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি অবস্থান নেন। স্যুট পরা কিছু মানুষ বিক্ষোভকারীদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। উভয় পক্ষের হাতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত কিছু মানুষের ছবিও দেখা গেছে ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'ফার্স' জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের একটি 'শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান' কর্মসূচি ছিল। কিন্তু 'স্বৈরাচার নিপাত যাক'—এমন স্লোগান দেওয়া শুরু হলে তা পণ্ড হয়ে যায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করে এই স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানায় ।
প্রসঙ্গত, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি তুঙ্গে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুরবস্থার জেরে গত ডিসেম্বরে ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। শিয়াধর্মাবলম্বীদের শোক পালনের প্রথা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের ৪০তম দিনে স্মরণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ইরানের জনগণ আবারও রাস্তায় নেমে আসেন ।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ইরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহতের কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের' কারণে এই সহিংসতা হয়েছে, যাদের ইরানের শত্রুরা উসকে দিয়েছিল । অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'এইচআরএএনএ'র তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি আরও ১২ হাজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ।
এমন এক সময়ে এসব বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা নিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ইস্যুতে নতুন চুক্তিতে আসার জন্য মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন এবং সম্প্রতি বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ।