এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
বিস্ফোরক! মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আলি লারিজানিকে গোপনে সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ খামেনির, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিতে চান?
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন জ্বলতে আর বেশি দেরি নেই। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের সম্ভাব্য মৃত্যু বা অপসারণের কথা ভেবেই তিনি গোপনে উত্তরাধিকারী নিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে খামেনি নিজের সম্ভাব্য নিহতের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলি লারিজানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসেন। কার্যত তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের শীর্ষে বসানো হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আলী লারিজানি বর্তমানে বিক্ষোভ দমন তদারকি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণবিক কূটনীতি পরিচালনা এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি দেখভাল করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তবু তাকে খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ইস্যুতে নতুন চুক্তিতে আসার জন্য মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় বিশাল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। রণতরী, হাজার হাজার সৈন্য ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নিয়ে যেকোনো সময় হামলা চালাতে প্রস্তুত তারা।
ইরানের কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এই গোপন উত্তরাধিকারী নিয়োগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।