ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

বিস্ফোরক! ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সবচেয়ে বড় বোঝা, মার্কিন সাংবাদিকের দাবিতে তোলপাড়


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০২ পিএম

বিস্ফোরক! ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সবচেয়ে বড় বোঝা, মার্কিন সাংবাদিকের দাবিতে তোলপাড়

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী সাংবাদিক এমন মন্তব্য করে বসেছেন যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সবচেয়ে বড় বিদেশি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উচিত এমন সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসা এবং ইরান ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা।

পার্স টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক টাকার কারসন সৌদি নেটওয়ার্ক রোটানাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদদের ইসরায়েলকে সমর্থন করার প্রবল মনোযোগ একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'সবচেয়ে বড় বিদেশি বোঝা'তে পরিণত করেছে । তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বর্তমানে ওয়াশিংটনের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে কাজ করছে, যেখানে আমেরিকার সম্পদ তেল আবিবের সুবিধার জন্য ব্যয় হচ্ছে ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তেল আবিবের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে কারসন যোগ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে নিজেদের সম্পদ ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে ।

তিনি মার্কিন নেতাদের ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্যের আরেকটি সমালোচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেন। কারসন বলেন, যে পরিস্থিতিতে দেশটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জাতীয় ঐক্যের সমস্যা ও অভিবাসন সংকটের মুখোমুখি, সেখানে মার্কিন নেতাদের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবির দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে বাহ্যিক চাপ প্রতিরোধ করা উচিত ।

আল-কুদসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে কারসন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে ইরানে শাসক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক সংঘাতে যাওয়ার জন্য ব্যাপক চাপের অস্তিত্ব প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের পক্ষে এই ছায়াযুদ্ধে জড়ানো কেবলমাত্র এই অঞ্চলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের স্থিতিশীলতার জন্য মোটেও ভালো নয় ।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ও লিন্ডসে গ্রাহামের মতো সিনেটরদের তীব্র সমালোচনা করে কারসন অভিযোগ করেন, এই রাজনীতিবিদরা ইসরায়েলি স্বার্থকে আমেরিকান জনগণের স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং এমনকি নিজের দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন । টাকার কারসনের মতে, আনুগত্যের এই দ্বৈততা একটি মৌলিক সমস্যা যা একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করছে ।

কারসনের এই মন্তব্য ইরান ইস্যুতে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী এবং এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াবে মাত্র। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক কূটনীতি গ্রহণ করা এবং ইরান-মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত দৃষ্টিকোণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।