ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

হেটমায়ারের ঝড়ে উড়ল জিম্বাবুয়ে, ১০৭ রানের জয়ে ফিরল ‘আসল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বমঞ্চে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

হেটমায়ারের ঝড়ে উড়ল জিম্বাবুয়ে, ১০৭ রানের জয়ে ফিরল ‘আসল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বমঞ্চে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই একসময় ছিল ক্যারিবীয় ঝড়। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ—২০১২ ও ২০১৬ সালে শিরোপা জয়ের পর ক্রিকেট দুনিয়ায় আলাদা পরিচয় গড়েছিল তারা। ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো তারাও দুইবার ট্রফি জিতেছে।

কিন্তু গত এক দশকে যেন নিজেদের প্রিয় এই টুর্নামেন্টে ছায়া হয়ে গিয়েছিল উইন্ডিজরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যাচ্ছে একেবারে ভিন্ন চেহারা। শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জানান দিচ্ছে—“এই ওয়েস্ট ইন্ডিজই তো সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ!”

গ্রুপ পর্বে টানা দাপট

অভিযান শুরু হয়েছিল শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে। এরপর স্কটল্যান্ডকে ৩০ রানে, ইতালিকে ৯ উইকেটে এবং নেপালকে ৪২ রানে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে ক্যারিবীয়রা।

সুপার এইটে প্রথম ম্যাচেও থামেনি সেই গতি। উড়তে থাকা জিম্বাবুয়েকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নেয় তারা।

মুম্বাইয়ে হেটমায়ার নামের ঘূর্ণিঝড়

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম–এ যেন ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন শিমরন হেটমায়ার। আক্ষরিক অর্থে নয়, তার ব্যাট থেকেই বেরিয়েছে ঘূর্ণিঝড়—যার তাণ্ডবে কাবু জিম্বাবুয়ে।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করে হেটমায়ারের ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ক্যারিবীয়রা। জবাবে জিম্বাবুয়ে থামে ১৪৭ রানে।

শুরুটা ধীর, তারপর বিস্ফোরণ

টসে জিতে জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় উইন্ডিজকে। তবে শুরুটা খুব ভালো হয়নি। ১৭ রানের মাথায় ভেঙে যায় ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপের জুটি। কিং ১২ বলে ৯ রান করে ফেরেন।

এরপর তিন নম্বরে নেমেই আগ্রাসী রূপ নেন হেটমায়ার। পাওয়ারপ্লেতেই ছন্দ খুঁজে পান তিনি। হোপ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হলেও হেটমায়ার থামেননি। ৬ ওভারে ৫৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পাওয়ারপ্লে শেষে চারে নেমে যোগ দেন রভম্যান পাওয়েল। দুজনের ব্যাটে রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে রান। দ্রুত ফিফটি ছোঁয়া হেটমায়ার সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামেন—৩৪ বলে ৮৫ রানের তাণ্ডব ইনিংস খেলে।

পাওয়েলও কম যাননি, ৩৫ বলে করেন ৫৯ রান। শেষদিকে ১০ বলে ২১ রান করেন রোমারিও শেফার্ড, ৪ বলে ১৩ রান জেসন হোল্ডারের, আর ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন শেরফান রাদারফোর্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪—বিশাল স্কোর!

জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। একটি করে উইকেট পান গ্রায়েম ক্রেমার ও ব্র্যাড ইভানস।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ধস

২৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়। ২০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তাদিওয়ানাশে মারুমানি (১৪), ব্রায়ান বেনেট (৫) ও রায়ান বার্ল (০) দ্রুত বিদায় নেন।

ডিয়ন মেয়ার্স ১৫ বলে ২৮ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ টেকেননি। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২০ বলে ২৭ রান করেন।

৯৪/৪ থেকে মুহূর্তেই ১০৩/৯—মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জিম্বাবুয়ে। শেষদিকে ব্র্যাড ইভানস ২১ বলে ৪৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দল থামে ১৪৭ রানে।

বোলিংয়েও ক্যারিবীয় ঝড়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে গুডাকেশ মোটি নেন ৪ উইকেট। আকিল হোসাইন ৩টি, ম্যাথু ফোর্ড ২টি এবং জেসন হোল্ডার ১টি উইকেট শিকার করেন।

সব মিলিয়ে, ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রশ্ন এখন একটাই—এই ছন্দ ধরে রেখে তারা কি তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারবে?