এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে জোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই আগ্রাসনের জবানবন্দি দিতে আগেই কোমর বেঁধেছে তেহরান। গোপনে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে দেশটি। আর ঠিক এমন সময়েই রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক মিসাইল কিনতে বিরাট চুক্তি সম্পন্ন করেছে ইরান।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) বিশাল অস্ত্র চুক্তি সই করে ইরান। এই চুক্তির আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে ইরানকে সরবরাহ করা হবে ৫০০টি ‘ম্যান পোর্টেবল ভার্বা লঞ্চ ইউনিট’ এবং ২৫০০টি অত্যাধুনিক ‘৯এম৩৩৬’ ক্ষেপণাস্ত্র।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই অস্ত্র কেনার জন্য রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল ইরান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই সময়টাতেই ইরানের একটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার পরপরই নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়িয়ে দেয় তেহরান।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা গোপনে মস্কো সফর করে এই চুক্তি সই করেন। রাজধানী তেহরানে নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিকে সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের এক বড় কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এখন প্রশ্ন হলো, ইরানের এই মিসাইল শক্তি বাড়ানোর পদক্ষেপে কতটা বেকায়দায় পড়বে যুক্তরাষ্ট্র? আর এর জবাবে কি নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন? নাকি কূটনৈতিক পথে এগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে? তেহরানের এই চমকপ্রদ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।