এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এখন মেতে রয়েছেন ক্রিকেটভক্তরা। ভারতের মাটিতে এখন চলছে ক্রিকেট উৎসব। আর আইপিএলের সূত্র ধরেই তো প্রায় বছর জুড়েই দেশ-বিদেশের ক্রিকেটারদের ভারতে আনাগোনা লেগেই থাকে। শুধু খেলাধুলাই নয়, অনেক বিদেশি তারকা এ দেশের মাটিতে খুঁজে নিয়েছেন জীবনের পরম বন্ধুকে। কেউ আবার ভালোবাসায় বেঁধেছেন জীবন। চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সব ক্রিকেটারদের তালিকা, যারা ভারতীয় নারীদের বিয়ে করে সংসার পেতেছেন।
অস্ট্রেলিয়ান তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তো প্রায় ‘ভারতীয় জামাই’ হয়েই গিয়েছেন। চেন্নাইয়ের মেয়ে ফার্মাসিস্ট ভিনি রমনকে বিয়ে করেছেন তিনি। ২০১৩ সালে মেলবোর্ন স্টারসের একটি ইভেন্টে তাঁদের প্রথম দেখা। দীর্ঘ প্রেমের পর ২০২২ সালের মার্চে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা।
বিরাট গুঞ্জন তৈরি করেছিল শন টেইটের বিয়ের খবর। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা পেসার ভারতীয় মডেল মাশুম সিংহাকে বিয়ে করে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। ২০১০ সালে আইপিএলের এক আফটার পার্টিতে প্রথম দেখা দুজনের। চার বছর প্রেমের পর মুম্বাইয়ের এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন তাঁরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুবরাজ সিং, জাহির খানের মতো তারকারাও।
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার মুথাইয়া মুরালিধরনও বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় কন্যাকেই। ২০০৫ সালে চেন্নাইয়ের মেয়ে মাধিমালা রামামূর্তিকে বিয়ে করেন এই শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি। বিয়েতে ক্রিকেট দুনিয়ার বহু তারকার সমাগম হয়েছিল। অবসরের পর দম্পতি এখন জনহিতকর কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
এবার আসা যাক ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের উত্তাপ ছাপিয়ে ভালোবাসার গল্পে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক ও ভারতের টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জার বিয়ে তো সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ২০১০ সালে জমকালো আয়োজনে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। তবে সব গল্প যে সুখের হয় না, তার উদাহরণ এই দম্পতি। ২০২৪ সালে ছেদ পড়ে তাঁদের সংসারে।
পাকিস্তানের আরেক পেসার হাসান আলিও বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ভারতীয় কন্যার হাত ধরে। ২০১৯ সালে হরিয়ানার মেয়ে সামিয়া আরজুকে বিয়ে করেন তিনি। পেশায় ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সামিয়ার সঙ্গে দুবাইতে বিয়ে হয় হাসানের। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সেই অনুষ্ঠান হয়েছিল।
একসময় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন রীনা রায়। ১৯৮৩ সালে অভিনয় ছেড়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটার মহসিন খানকে বিয়ে করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে সুখের হয়নি সে দাম্পত্য। এক কন্যার জন্মের পর তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে ভারতে ফিরে আসেন রীনা।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি ভারতীয় মানস সারাভাইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। গুজরাটের সুপরিচিত সারাভাই পরিবারের সদস্য মানা ছিলেন মনোবিজ্ঞানী। মানার বাবা অম্বালাল সারাভাই ছিলেন শিল্পপতি, আর মা মৃদুলা সারাভাই ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী।
কিউই কিংবদন্তি গ্লেন টার্নারও বিয়ে করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুখিন্দর কৌর গিলকে। ১৯৭৩ সালে বিয়ে হয় তাঁদের। ভারতে জন্ম সুখির, ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান। ইংল্যান্ডের ওরচেস্টারশায়ারে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় গ্লেনের সঙ্গে দেখা, তারপর প্রেম আর বিয়ে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না হলেও বহু বছর চর্চায় ছিল নীনা গুপ্তা ও ভিভিয়ান রিচার্ডসের প্রেমকাহিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই ভয়ংকর ব্যাটার তখন বিবাহিত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তাঁদের এক কন্যা সন্তানও হয়। মা হয়েও সিঙ্গল মাদার হিসেবে মাসাবা গুপ্তাকে বড় করেছেন নীনা। বর্তমানে মাসাবা বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার।