এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়ানোর আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে জেনেভা আলোচনাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে ঠাসা স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরানের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বের নজর এখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের দিকে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর প্রায় দুই ঘণ্টার ভাষণে সংক্ষেপে ইরান প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছি। তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমরা এখনও সেই গোপন কথাগুলো শুনিনি: ‘আমরা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখব না।’” তিনি আরও বলেন, “আমার ইচ্ছা এই সমস্যা কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধা করা হোক। তবে একটা জিনিস নিশ্চিত, আমি কখনও বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসপৃষ্ঠপোষককে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেব না।”
ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য ঠিক সেই মুহূর্তে এল, যখন বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পরবর্তী পারমাণবিক আলোচনার জন্য বসছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আশাকেই বাড়িয়ে দিয়েছে। Signum Global Advisors-এর মার্কিন নীতি বিশ্লেষক জর্জ পল্যাক বলেন, “প্রধানত তিনি একটি বিজয়ের চেহারা দেখাতে চাইছেন। তিনি দাবি করেছেন যে আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হয়নি। তিনি কিছু সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করেছেন, কিন্তু পুরোপুরি শেষ করেননি।”
পল্যাক আরও বলেন, “এটি মূলত মার্কিন শক্তি প্রদর্শন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ছবি দেখানোর মতো। কূটনীতির চেয়ে এটার বেশি গুরুত্ব দৃশ্যমানতা এবং ভাবমূর্তির জন্য।” তিনি যোগ করেন, “সেই কারণেই আমরা মনে করি বৃহস্পতিবারের বৈঠক সম্ভবত সফল হবে এবং আরও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আলোচনার রাউন্ড মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও তেলের বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোটা বিশ্ব এখন জেনেভার দিকে তাকিয়ে আছে, দেখতে চায় ট্রাম্পের হুমকি আর ইরানের প্রত্যুত্তরের এই টানাপোড়েনের মধ্য থেকে কি বেরিয়ে আসবে কোনো ইতিবাচক ফলাফল?