এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৩ এএম
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সুয়েদায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার একটি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রথমদিকে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সুয়েদায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে পরে পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে—“সুয়েদা শহরে ন্যাশনাল গার্ডের একটি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণ ঘটেছে।”
দক্ষিণ সিরিয়ার এই অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড কার্যত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠীর অধীনে থাকা বাহিনীর মাধ্যমে। বর্তমানে তারাই সুয়েদা অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা Syrian Arab News Agency (সানা) জানিয়েছিল, সুয়েদার একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে গুদাম বিস্ফোরণের কথা উঠে আসে।
এদিকে উত্তেজনা শুধু সিরিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। Saudi Arabia, Qatar, Bahrain, Kuwait, Oman এবং United Arab Emirates–এ মার্কিন সৈন্যদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরান বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে গোটা অঞ্চলে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “এটি আমেরিকার যুদ্ধ নয়।”
অন্যদিকে, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনালাপে “তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা বন্ধের” আহ্বান জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখছে বিশ্ব।