ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪০ কর্মকর্তা নিহত! মুসাভি-খামেনি-আহমেদিনেজাদ-সহ এক মিনিটে শেষ!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪০ কর্মকর্তা নিহত! মুসাভি-খামেনি-আহমেদিনেজাদ-সহ এক মিনিটে শেষ!

ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ) তাদের ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর শুরুর ধাপেই মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ইরানের ৪০ জন সিনিয়র কমান্ডারকে হত্যা করেছে। রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতেই এই ‘আগাম হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব।

তেহরানে নিখুঁত হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে একই সময়ে এই হামলা চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পরিষদের সাতজন সদস্য যেখানে সমবেত হয়েছিলেন, সেখানেও আঘাত হানা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগের এক অভিযানে মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর মুসাভিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আইডিএফ এক পৃথক বিবৃতিতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকেও হত্যার দাবি করেছে।

ইসরায়েলের দাবি, জেনারেল মুসাভি সরাসরি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তদারকি করতেন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পেছনে তার প্রধান ভূমিকা ছিল।

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিধ্বস্ত

আইডিএফ আরও জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে তেহরানের আকাশে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ও অবাধে অভিযান চালানোর পথ সুগম হয়েছে। শনিবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক অবকাঠামোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলের ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ইরানের ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেও এই হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।

দেশটি জানায়, হামলার শুরুতে রাডার এবং বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস করা হয়, যাতে তারা ইসরায়েলে পাল্টা বড় কোনো হামলা চালাতে না পারে। ইরানের পবিত্র নগরী কোমের কাছে একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

ইসরায়েলের এই অভিযানের সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পাল্টা জবাব

ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরানও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রোববার যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেও পুরো ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজতে শোনা গেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছে।

কৌশলগত সফলতা

ইসরায়েল এই অভিযানের প্রথম মিনিটের ‘ডেকাপিটেট স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনাটিকে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, এর ফলে ইরানের কমান্ড চেইন ভেঙে পড়েছে এবং তেহরানের পক্ষে দ্রুত ও সংগঠিত কোনো পাল্টা জবাব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।