ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে বিশ্লেষণ, আকাশপথে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে বিশ্লেষণ, আকাশপথে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ, আর সেই রণক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলার পর হোয়াইট হাউস থেকে দাবি করা হচ্ছে— এই যুদ্ধ কেবল ইরানি জনগণের ‘স্বাধীনতার’ জন্য। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য কেবল বোমাবর্ষণ নয়, বরং তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো।

বিশ্লেষকরা এখন দেখছেন, ট্রাম্প কোন পথে হাঁটবেন। ২০০৩ সালের ইরাক মডেল অনুসরণ করে সরাসরি পদাতিক সৈন্য নামিয়ে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াবেন নাকি ২০১১ সালের লিবিয়া মডেলের মতো আকাশপথে হামলা চালিয়ে স্থানীয় বিদ্রোহীদের ওপর সরকার পতনের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন? মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব এবং ইরানের শক্তিশালী সামরিক কাঠামো— এই দুইয়ের মাঝে ট্রাম্পের ‘এয়ার পাওয়ার’ কি সফল হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও জটিল পরিস্থিতিতে ঢুকে পড়বে?

আল-জাজিরায় প্রকাশিত লেবানিজ লেখক আলী হারবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি কেবল ইরানি জনগণের জন্য ‘স্বাধীনতা’ চান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাবির আড়ালে লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।

লিবিয়ার উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধু আকাশপথের শক্তিতে ভবন ধ্বংস করা সম্ভব হলেও সরকার পরিবর্তন করা কঠিন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটো বিমান হামলা চালালেও শাসনব্যবস্থার পতনে মূল ভূমিকা ছিল স্থানীয় বিদ্রোহীদের। ইরানে এই মুহূর্তে এমন সুসংগঠিত বিদ্রোহী শক্তি না থাকায় ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, “সরাসরি পদাতিক সৈন্য না পাঠালে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা কঠিন, এমনকি অসম্ভব।” তিনি আরও যোগ করেন, “হয়তো তারা কিছু মাধ্যমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা কেবল আকাশপথের শক্তিতে অর্জিত হলেই সন্তুষ্ট হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার মুহূর্ত এখন নাগালের মধ্যে। আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা সরকারের দায়িত্ব বুঝে নিন।’ এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায়।

‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর নির্বাহী সহ-সভাপতি ম্যাথিউ ডাস বলেন, “শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা ধসানো সম্ভব নয়। ভবন ধ্বংস করা যায়, কিন্তু সরকার পরিবর্তন করা কঠিন।” লিবিয়ার উদাহরণ দেখাচ্ছে, বিদ্রোহীদের ভূমিকা ছাড়া এমন আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়।

যদিও ট্রাম্প সরাসরি পদাতিক সৈন্য অভিযান চালানোর পথ খোলা রেখেছেন, তবে এটি মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে এবং সংক্ষিপ্ত, দ্রুত অভিযানের নীতির বিরোধী হবে। ডাস বলেন, “ইরানে কোনো আমেরিকান পদাতিক সৈন্য না থাকলেও এই যুদ্ধ জনগণের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।” রয়টার্স জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫% মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের ৫৫%-এর সমর্থনের তুলনায় অনেক কম।