বিএইচ সিজান . | প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
বিশ্বের অনেক দেশে স্কুলে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা কমছে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বৈশ্বিক প্রবণতা হিসেবে ধরা পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, UNESCO-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব ছাড়িয়ে ২০১৫ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণের হার স্থির হয়ে পড়েছে, এমনকি অনেক দেশে তা কমছে।
UNESCO নিয়মিত শিশুদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে বেশিরভাগ দেশে শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার দ্রুত বাড়ছিল। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় থেমে গেছে। বিশেষ করে সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোতে স্কুলে না যাওয়া শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
কিছু দেশ যেমন সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও এস্তোনিয়ায়ও স্কুলে উপস্থিতির হার কমে গেছে। এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষের বসবাস।
বিশ্বের ১৪৮টি দেশের মধ্যে বেশিরভাগেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সর্বজনীন নয়, ১৩১ দেশে নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত নয়, এবং ১২৮ দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক শিশু উপস্থিতি নেই। গত দশকে ৬৬টি দেশেই স্কুলে না যাওয়া শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া এককভাবে আফ্রিকার সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
শিক্ষার এই বৈশ্বিক পতন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। শহরায়ণ ও প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও শিক্ষায় অংশগ্রহণ কমে যাওয়া গভীর চিন্তার বিষয়। UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও শহরায়িত অঞ্চলগুলোতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক সাম্যের জন্য বড় আঘাত হতে পারে।
শিক্ষার পতন অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য হুমকি স্বরূপ। শিশুদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া তাদের ব্যক্তিগত বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির সম্পদ ও উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাই এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।