বিএইচ সিজান . | প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তার পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগের জন্য ইরাককে মূল স্টেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ইরাক ধীরে ধীরে এমন একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে যেখানে থেকে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে পারবে, যদিও বাগদাদ সরাসরি কোনও যুদ্ধে অংশ নেবে না।
জুন মাসের শেষের দিকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এর প্রবেশ পথ আটকে দেয় এবং একাধিক রেইড পরিচালনা করে। এই এলাকা যেখানে সরকারী দপ্তর ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত। বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সমর্থক বলে মিডিয়া রিপোর্ট করে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান হিসেবে প্রচার করা হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই ধরনের অভিযান প্রায়শই ক্ষমতার লড়াই ও বহিরাগত প্রভাব বিস্তার হিসেবে দেখা হয়।
আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি, যিনি ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিতে নবাগত, ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এতে বোঝা যায়, ইরাকের हालবতী রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে ইরাকের প্রো-ইরানি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমানো, তেহরানের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা এবং বাগদাদকে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের জন্য আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তোলা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশেষ করে ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের পিরানশাহর শহরের কাছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পাঁচজন সন্ত্রাসী নির্মূলের ঘটনা এই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলটি ইরাক সীমান্তের খুব কাছাকাছি, যেখানে তামারচিন সীমান্ত পোর্ট অবস্থিত। এটি কেবল বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতিগত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রধান ক্ষেত্র।
কুর্দি জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বড় ভূমিকা পালন করে এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কুর্দিদের ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছে বলে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। ইরাকের রাজনৈতিক পরিসর ও কুর্দি সীমান্ত এলাকা মিলিয়ে এখন একটি জটিল চাপের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে যা ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড কৌশল প্রয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
তবে, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড, কঠিন ভৌগলিক পরিবেশ, শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বিরাট সামরিক সক্ষমতা এমন আক্রমণের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া, ইরাকের মাধ্যমে সরাসরি আক্রমণ করলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ইরাককে ব্যবহার করে রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও সামরিক মোড়কে চাপ সৃষ্টি করা হবে যা সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধের অংশ। এটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ইরানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, কুর্দি জনগোষ্ঠীর ভূমিকাও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই চাপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য পাল্টে যেতে পারে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।