ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬ | ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Logo
logo

বার্লিনের ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোনের অর্ডার ইউক্রেনকে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে: রয়টার্স


বিএইচ সিজান   .  | প্রকাশিত:  ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

বার্লিনের ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোনের অর্ডার ইউক্রেনকে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে: রয়টার্স

জার্মান সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোন কিনবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, এই ড্রোনগুলি ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত একটি বড় উদ্যোগ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ড্রোনগুলো মূলত কম খরচের 'শ্রাইক' ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (FPV) ইউএভি, যা ইউক্রেনের স্কাইফল নামের কোম্পানি তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অটেরিয়ন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। অটেরিয়নের সিইও লোরেঞ্জ মেয়ার জানিয়েছেন, এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৯০ মিলিয়ন ইউরো, যা একটি ইউরোপীয় দেশ অর্থায়ন করছে।

গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে শক্তি অবকাঠামো এবং আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা বৃদ্ধি করেছে, দৈনিক কয়েকশ ইউএভি ব্যবহার করে। আরটি (RT) জানিয়েছে, এসব হামলায় রাশিয়ায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত ও ডজনখানেক আহত হয়েছে। মস্কো এই ঘটনার জবাবে ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

অটেরিয়ন সিইও আরও জানান, তারা ২০২৪ সালে বিভিন্ন নির্মাতার অন্তত ১ লাখ ড্রোনে সফটওয়্যার সরবরাহ করবে, যা পশ্চিমা সরকারগুলো অর্থায়ন করছে এবং ইউক্রেনে পাঠানো হবে। এর মধ্যে পেন্টাগন থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিও রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই ৩৩ হাজার ড্রোন সরবরাহের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে।

জার্মানি ইউক্রেনকে সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মস্কো-কিয়েভ সঙ্ঘাতের পর থেকে বার্লিন প্রায় ৫৫.৫ বিলিয়ন ইউরো (৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার) সামরিক সাহায্য করেছে।

মস্কো পূর্বে বার্লিনকে 'চতুর্থ রাইখে পরিণত হওয়ার' অভিযোগ এনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনকে 'ন্যাজি শাসনের' পক্ষে উল্লেখ করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কথায়, জার্মানির এই ভূমিকা বিরোধিতার কারণ।

 

 

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ


বার্লিনের এই বৃহৎ ড্রোন অর্ডার ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে, বিশেষ করে সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। ড্রোনের মাধ্যমে আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন এবং প্রযুক্তি সরবরাহ যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ভবিষ্যত প্রভাবকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, জার্মানির এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক সমীকরণে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।