এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ব্রিটিশ নাগরিক ন্দোদানা মখানিসি ত্সুমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি যুক্তরাজ্যে তার স্ত্রী ও দুই কন্যার হত্যার অভিযোগে চিহ্নিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ত্সুমা দক্ষিণ আফ্রিকার আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য হাজির হবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ সার্ভিসের (SAPS) জাতীয় মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার আথলেন্ডা মাথে নিশ্চিত করেছেন, ত্সুমার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য থেকে প্রাথমিক বহিষ্কারের আবেদন এসেছে, যা ইন্টারপোল ম্যানচেস্টারের মাধ্যমে এসেছে। একই সময়ে, জোহানেসবার্গ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ধারণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মাথে আরও জানান, ত্সুমার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে তার স্ত্রী নোথাবো জ্যান্ডিলে ত্সুমা (৪২) এবং তাদের দুই কন্যা ন্যাটালি (১৫) ও নালা (৫) এর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এই তিনজনের মৃতদেহ গত সপ্তাহে পরিবারের বাড়িতে পাওয়া যায়। পুলিশ তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বাড়িতে প্রবেশ করে।
গ্রেফতারের সময় ত্সুমার কাছে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে এবং পুলিশের তদন্ত চলছে, যারা অবৈধ অস্ত্র বিক্রেতাদের সন্ধান করছে। মাথে জানিয়েছেন, ত্সুমার বিপরীতে ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং ৪০ দিনের মধ্যে পূর্ণ বহিষ্কারের আবেদন দাখিল হবে, যা আদালত বিচার করবে।
এসএপিএসের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের মাধ্যমে নিবিড় সমন্বয় করছেন এবং তথ্য বিনিময় করছেন। তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, ত্সুমাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় কেউ আশ্রয় বা সাহায্য করেছে।
ত্সুমার গ্রেফতার অভিযানটি কেঞ্চিংটনে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে এসএপিএসের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো, ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স এবং অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট অংশ নিয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ত্সুমা লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে জিম্বাবুয়েতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন। তিনি গৃহস্থালী ব্যবসা নেক্সাস ট্রোভ হোল্ডিংসের মালিক, যার মূলধন প্রায় ২৪ মিলিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ ও সহযোগিতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ, যেখানে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলিতভাবে কাজ করেছে। বহির্বিশ্ব থেকে আসা অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দক্ষ তদন্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এছাড়া, এই ধরনের মামলা বৈশ্বিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।