ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬ | ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Logo
logo

আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে আবারো হামলা শুরু করল, হরমুজ সংকট তীব্রতর


বিএইচ সিজান   .  | প্রকাশিত:  ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে আবারো হামলা শুরু করল, হরমুজ সংকট তীব্রতর

যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই হামলা গত রোববার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা যাতে তারা বাণিজ্যিক নৌযানগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আজ বিকেল ৫টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর আক্রমণ করার ক্ষমতা হ্রাস করা।" এই হামলায় ড্রোন ও মিসাইল স্থাপনাগুলো, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, রাডার সাইট এবং নৌযানগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরীগুলো, যেমন বান্দার আব্বাস, সিরিক, জাস্ক এবং কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী খুজস্থান প্রদেশে অন্তত আটটি শহরে হামলা হয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘‘যুদ্ধাপরাধ’’ বলে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে, যা প্রেস টিভি থেকে সম্প্রচারিত হয়েছে।

উত্তরে, ইরান বাহরাইনসহ পাঁচটি গালফ আরব রাষ্ট্রের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে, যার ফলে সেখানে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে কুয়েতের আলি আল সেলেম এবং আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতে আমেরিকার প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও রাডার সিস্টেম ধ্বংস করেছে।

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মোহাম্মদ বাগের ঘালিবাফ একপক্ষীয় চুক্তির বিরুদ্ধে সর্তক করে বলেছেন, "আমেরিকা যদি চুক্তি মানতে না চায় তবে তার মূল্য দিতে হবে।"

২০১৮ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দুই দেশ হরমুজ প্রণালীকে ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এ নিয়ে দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আসছে। ইরান দাবি করে তারা নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের অধিকার রাখে, যেখানে আমেরিকা পুরো প্রণালীকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখার দাবিতে জোর দেয়।

 

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ


হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেলের গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করবে। এই সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।