ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

যৌন দাসত্ব চালু রেখেও নারী অধিকারের ঝাণ্ডাবাহী বলে দাবি করছে পাশ্চাত্য: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৮ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৯:০১ পিএম

যৌন দাসত্ব চালু রেখেও নারী অধিকারের ঝাণ্ডাবাহী বলে দাবি করছে পাশ্চাত্য: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

যৌন দাসত্ব চালু রেখেও নারী অধিকারের ঝাণ্ডাবাহী বলে দাবি করছে পাশ্চাত্য: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের অধিকার ও দায়িত্ব ভিন্ন, তবে তা ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে এই ভিন্নতা জন্মগত; এটা গৃহ ও সমাজে ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে এবং স্বাভাবিকভাবেই নারী ও পুরুষের উচিৎ নয় এই অস্তিত্বগত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত আচরণ করা।

হজরত ফাতিমা (সা. আ.)’র শুভ জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে গত বুধবার সকালে একদল প্রভাবশালী নারীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সমাজ ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের দায়িত্ব অভিন্ন, তবে তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের ধরণে ভিন্নতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রতিরক্ষা যুদ্ধে (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) নারী-পুরুষ উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় প্রতিরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো করেছেন অথবা অন্তত পুরুষের সমান পর্যায়ে ছিলেন।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পাশ্চাত্যের পুরুষতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিপরীতে ইসলাম ধর্মে কিছু ক্ষেত্রে নারী ও কিছু ক্ষেত্রে পুরুষকে প্রাধান্য এবং আইনগত, চিন্তাগত, তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক থেকে মর্যাদা ও অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্য তাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকা পুরুষতন্ত্রকে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করছে।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একটি পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজি হচ্ছে মানবতারও ঊর্ধ্বে। এই ব্যবস্থায় মানবতা পুঁজির সেবায় নিয়োজিত। কাজেই যে ব্যক্তি বেশি পুঁজি অর্জন করতে পারে তার মূল্য তত বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুরুষরাই অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং এ ধরণের ক্ষেত্রগুলো পরিচালনা করে থাকে। এ কারণে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নারীর ওপর পুরুষ প্রাধান্য পায়।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এখনও পাশ্চাত্যের অনেক দেশে একই কাজের জন্য নারীর মজুরি পুরুষের চেয়ে বেশি। এটা অপব্যবহার। তারা উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে নারী স্বাধীনতার কথা বলে নারীদেরকে বাইরে নিয়ে এসেছে এবং কারখানায় নিয়ে গেছে। তারা কম মজুরি দিয়ে নারীদেরকে ব্যবহার করেছে।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেন, পশ্চিমাদের চরম ঔদ্ধত্য হচ্ছে এই যে, নারীদের যৌন দাসত্ব ও যৌন বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো লালন করার পরও তারা নিজেদেরকে নারী অধিকারের ঝাণ্ডাবাহী বলে দাবি করে। কেউ কেউ বলতো পাশ্চাত্যে নারী ও পুরুষের অবাধ সম্পর্কের কারণে পুরুষদের চোখ ও মনের তৃষ্ণা মিটে যাবে। এর ফলে যৌন অপরাধ আর ঘটবে না। কিন্তু এমনটা ঘটেনি বরং যৌন লালসা শতগুণ বেড়েছে এবং নানা ধরণের যৌন কেলেঙ্কারির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরণের নৈতিক ও মানবিক সীমা-পরিসীমা লঙ্ঘিত হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পাশ্চাত্য সব ধরণের নৈতিক ও মানবিক সীমা-পরিসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং সব ধর্মে নিষিদ্ধ পাপ কাজগুলোকে আইনি ও স্বাভাবিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। সমকামিতা ও এ ধরণের কাজগুলো কেবল ইসলাম ধর্ম নয় বরং সব ধর্মে মহাপাপ (কবিরা গোনাহ) হিসেবে গণ্য হয়। তারা এসব পাপ কাজকেও বৈধতা দিচ্ছে, তাদের কোনো লাজ-লজ্জা নেই।

খবর পার্সটুডে/এনবিএস /২০২৩/একে