ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরাইলি হামলা প্রচেষ্টা এবং ইউক্রেনের উস্কানিমূলক অবস্থানের ব্যাপারে ইরানের প্রতিক্রিয়া


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৯:০২ পিএম

ইসরাইলি হামলা প্রচেষ্টা এবং ইউক্রেনের উস্কানিমূলক অবস্থানের ব্যাপারে ইরানের প্রতিক্রিয়া


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইয়েরেভানি গতকাল (বুধবার) জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন।

ওই চিঠিতে ইরানের ইসফাহানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্সে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ইহুদিবাদী ইসরাইলই ওই হামলার জন্য দায়ী। এ ধরনের হামলার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং নিন্দনীয়।

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধির চিঠিতে, ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইয়েরেভানি বলেছেন: ইরান ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ঐক্য এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানায় ইরান।  

অথচ ইউক্রেনের কোনো এক কর্মকর্তা ইসফাহান শহরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্সে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এ ধরনের উস্কানিমূলক ও অযৌক্তিক বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। ইউক্রেনের কর্মকর্তার এমন অবস্থানকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতিসহ  জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন ইয়েরেভানি। তিনি ওই ঘটনার জন্য নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ইউক্রেনের উস্কানিমূলক অবস্থানের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চিঠি লেখার ঘটনা থেকে বোঝা যায় তেহরান তাদের শত্রু এবং শত্রুদের মিত্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত ও সচেতন। ইরান শত্রুদের গতিবিধির ওপর সতর্কভাবে নজর রাখছে এবং সময়মতো যথাযথ ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ইরানের বিরুদ্ধে তেলআবিবের ধ্বংসাত্মক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ এটাই প্রথম নয়। ইরানের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক শত্রু ইহুদিবাদী ইসরাইল। এই অবৈধ ও বর্ণবাদী শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক জোট গড়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি তাদের গোয়েন্দা বিভাগ মোসাদের মাধ্যমে ভাড়াটে বাহিনীর সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে এসেছে। তারা ইরানের কিছু বিজ্ঞানীকে গুপ্তহত্যা করেছে কিংবা কোনো স্থাপনায় চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইরানের নিরাপত্তা বিভাগ তাদের শনাক্ত করে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। যেমনটি ঘটেছে ইস্ফাহানের প্রতিরক্ষা বিভাগের ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্সে হামলার ক্ষেত্রে। তবে যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো ইসরাইলের হস্তক্ষেপ। সুতরাং অবৈধ এই সরকারকে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল অপরাধমূলক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তা না হলে  তাদেরকে যথাযথ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে চিঠিতে বলা হয়।

অপরদিকে ইসফাহানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনায় হামলার সমর্থনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মিখাইলো পোডোলিয়াক যে উস্কানিমূলক অবস্থান নিয়েছেন সে ব্যাপারেও জাতিসংঘ মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে চিঠিতে। সবশেষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এই সংস্থার সনদের ওপর ভিত্তি করে দায়িত্ব পালন করারও আহ্বান জানানো হয়।

খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২৩/একে