এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০১:০২ পিএম
তীব্র খরার কবলে শুকিয়ে যাচ্ছে ইতালির ভেনিস খালগুলো
বৃষ্টি নেই, আল্পস পর্বত থেকে অর্ধেকেরও কম তুষারপাতও হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চচাপ, পূর্ণচন্দ্র, সমুদ্রস্রোতসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু কারণ। গত ৭০ বছরের মধ্যে ভয়ঙ্কর খরা চলছে ইতালিতে। ইতালির বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট সিএনআর বলছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৫শ মিলিমিটার বৃষ্টি প্রয়োজন। আর এজন্যে ৫০ দিনের বৃষ্টি প্রয়োজন।
ভেনিস সিটি কাউন্সিলের স্রোতসংক্রান্ত বিভাগে প্রধান আলভিস পাপা জানান, খরার কারণে হ্রদ ও নদীতে পানি কমে গেছে। শুধু ভেনিস নয় ইতালির নদীগুলোতে একই কারণে নাব্যতা কমছে। ৬১ শতাংশ কম পানি প্রবাহিত হচ্ছে আগের চেয়ে। ভূমধ্যসাগরে উচ্চচাপসহ এমন একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার প্রভাবে বৃষ্টি কম হচ্ছে। ভাটা প্রলম্বিত হচ্ছে। তাই ভেনিসের খাল শুকিয়ে পড়ায় পর্যটক হারাচ্ছে ইতালি।
প্রতিবছরই জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে খালে পানি কমে আসা ও স্রোত না থাকার সমস্যায় ভোগে ভেনিস। তবে গত ১৬ বছরের মধ্যে এবারের মতো এত প্রকট সমস্যায় পড়তে হয়নি ভেনিসবাসীকে। ঘাটে বাধা নৌকা পানিতে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ তুলছে না। বরং কাদায় আটকে পড়ে আছে।
ভেনিসজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নৌপথে অসংখ্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চলতে পারছে না। শহরটির জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পাওলো রোসি বলেন, ‘ বেশির ভাগ জায়গায় আমরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। হেঁটে রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে।’
গত সপ্তাহে ভেনিসের খালগুলোয় পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ফুট কম ছিল বলে জানান আলভিস পাপা। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। শতাধিক দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা ভেনিসে খালগুলো ঐতিহাসিক এ শহরের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। ইউরোপিয়ান জিওসায়েন্সেস ইউনিয়নের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ভেনিস। সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২১০০ সালের মধ্যে এই শহর পুরোপুরি সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভেনিস বন্দর ও শহরের আশপাশে বড় বড় প্রমোদতরির আনাগোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব জলযানের যাতায়াতের ফলে বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়। এসব ঢেউ ভেনিসের প্রাচীন স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করে।
এনবিএস/ওডে/সি