এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৮:০২ পিএম
রেফারিদের বেতন না দিয়েই ম্যাচ পরিচালনা করাচ্ছে বাফুফে
আগামী শনিবার শেষ হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম পর্ব। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই লিগে দুই লেগ মিলিয়ে মোট ১১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম পর্বের ৫৫ ম্যাচ শেষ হতে চললেও এখনো প্রাপ্য সম্মানী পাননি রেফারিরা। চলতি মৌসুমে সমাপ্ত স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ কোনো প্রতিযোগিতারই অর্থ পাননি তারা। উল্টো গত মৌসুমেরও কিছু বকেয়া বাকি থেকে গেছে। রেফারিদের হিসাব অনুযায়ী, সবমিলিয়ে তাদের পাওনা জমেছে দেড় কোটি টাকার মতো।
ফুটবলের অন্যতম প্রাণ রেফারি। সেই রেফারিদের নিয়ে বাফুফে বরাবরই উদাসীন। গত মৌসুমের মাঝপথে বকেয়া আদায় ও সম্মানী বৃদ্ধির জন্য বাঁশি না বাজানোর পথে হেটেছিলেন তারা। সে সময় বাফুফে রেফারিদের সম্মানী বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত বকেয়া পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রেফারিদের তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরের পর কোনো সম্মানী পাননি তারা।
কোড অব কন্ডাক্টের কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেফারি বলছেন, গত প্রিমিয়ার লিগে মোট ১৫৬টি খেলার মধ্যে মাত্র ৬২টি ম্যাচের ফি পেয়েছি। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের গত আসরের অর্ধেক বিল এখনো বাকি।
গত বছর আন্দোলনের পর রেফারিদের সম্মানী কিছুটা বেড়েছে। এখন প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচ পরিচালনা করতে রেফারি-ম্যাচ কমিশনার বাবদ বাফুফের ৪০-৫০ হাজার টাকা (ভেন্যু ও রেফারিভেদে) ব্যয় হয়। রেফারি/ম্যাচ কমিশনারদের বিল ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪০ হাজার করে হলে চলতি মৌসুমেই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি হয়ে যায়। আবার, গত মৌসুম মিলিয়ে হিসাব করলে পার হয়ে যায় কোটির অঙ্ক।
দুঃখ ভারাক্রান্ত কন্ঠে এক রেফারি জানান, কুমিল্লা, রাজশাহীতে বাঁশি বাজাতে বা পতাকা তুলতে আমাদের নিজের ঘাটের পয়সা খরচ করে যেতে হয়। যাতায়াত, আবাসন ও খাওয়ার নিজেদের পয়সা দিয়েই মেটাই। আর এ কারণে অনেকে কমমূল্যের বাসে যাতায়াত ও সস্তা খাবার খেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই এটা মাঠের খেলাতেও প্রভাব পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
রেফারিদের বিল বকেয়ার মধ্যে রেফারিদের উন্নয়নের জন্য ভারতীয় এক বিশেষজ্ঞ এনেছে ফুটবল ফেডারেশন। এ নিয়েও রেফারিদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, যেখানে আমাদের সম্মানীর বকেয়া রয়ে গেছে, সেখানে বিদেশ থেকে বেশি পয়সায় বিশেষজ্ঞ এনে কতটুকু উন্নয়ন হবে।
এনবিএস/ওডে/সি