ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ধরা পড়লো বাফুফের আর্থিক কেলেঙ্কারি

গত বছর দেশের ফুটবলে বড় সাফল্য এনেছিলো লাল-সবুজের মেয়েরা। কিন্তু পুরো দেশকে বিস্মিত করে চলতি বছরে মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে খেলতে সাফ চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দলকে আর্থিক সংকটে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে বাফুফে। বাফুফে এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছেন না ক্রীড়া মন্ত্রী। এদিকে বাফুফের এমন কাণ্ডে সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করার সুপারিশ করেছিলেন তারা। যার শুরুটা অলিম্পিক বাছাই খেলতে নারী দলের মিয়ানমার না যাওয়া থেকে। এতেই বিপাকে পড়েছে বাফুফে, আর্থিক অঙ্কের সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ ফেডারেশন। 

মেয়েদের মিয়ানমার সফরের জন্য জার্সি থেকে মোজা, জুতা, টিকিট থেকে ভিসা ফি, জরুরী খরচ আবার অন্যান্য এমন নানা খাতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গ অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিল ফুটবল ফেডারেশন। সবমিলে যার অংক ৯২ লাখ টাকা। 

২৯ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে সফর বাতিলের ঘোষণা দেন বাফুফে। পরদিন সফর বাতিলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সাধারণ সম্পাদক। যেখানে প্রথমে প্রায় কোটি টাকার কথা বললেও পরে সফরে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলেন আবু নাঈম সোহাগ। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, মিনিমাম আমাদের এখানে ৫০ হাজার ডলারের মতো টাকা দরকার ছিল। বাফুফে প্রথমে বলেছিল অর্থের একাংশ তাদের কাছে আছে, বাকিটা সরকার ও স্পন্সরদের কাছে আবেদন করেও মেলেনি। কিন্তু ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে বাফুফে তা বলছে ভিন্নকথা। সেখানে ৯২ লাখ টাকার হিসাব দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন।

যেন নতুন এক সংসার গড়ার চেষ্টা। ম্যাচ জার্সি, প্র্যাকটিস জার্সি, ট্রাভেল টি শার্ট, কেডস, গোলরক্ষকদের গ্লভস সব আছে। শুধু ক্রীড়া সামগ্রী খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ২৫০ টাকা, বাদ যায়নি মোজাও। ব্যাগ, বিবস, বলও আছে তালিকায়। কিন্তু এসব পন্য দিয়ে থাকে বাফুফের চুক্তিবদ্ধ স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংক। এছাড়াও ৩১ জনের দলের বিমান ভাড়া, ভিসা ফি ও ইনসুরেন্সের জন্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ টাকা। যা বর্তমান খরচের তুলনায় জনপ্রতি ৫০ হাজার বেশি। যে হিসাব নিয়েও আছে প্রশ্ন। সবকিছুকেই হাস্যকর বলছেন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আর্থিক বিষয়ে আরো অনেক বেশি স্বচ্ছতা আনা দরকার।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads