এশিয়া কাপ: অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন ভারতে, বাংলাদেশে নেই
বিশ্ব ক্রিকেটে এশিয়া অঞ্চলের একটা বড় প্রভাব রয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব করে এই মহাদেশের দলগুলো। তাই এশিয়া কাপের মর্যাদা অনেক বেশি। এমন একটা আসরে যে অভিজ্ঞরা ভালো করে, তা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বুঝলেও আমাদের বোর্ড তা বুঝলো না। তারা তুলনামূলক ভাবে তরুণদের নিয়েই সাফল্য লাভ করতে চান। যা আসলে সম্ভব নয়।
ভারতের ঘোষিত ১৭ সদস্যের দলে ত্রিশোর্ধ খেলোয়াড় রয়েছে সাত জন। সেখানে বাংলাদেশ দলে রয়েছে মাত্র দুই জন। এবারের এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলে অনেক নবীন ও তরুণ ক্রিকেটারকে শেষ পর্যন্ত বাদ রেখে নেওয়া হয়েছে সিনিয়রদের। অথচ, বাংলাদেশ দলে জায়গাই হয়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ও বিপদের কান্ডারীর।
মাশরাফি বিন মুর্তজা আছেন অবসরে, তামিম ইকবাল ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপ খেলবেন না। ফলে অভিজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন শুধুমাত্র অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। যেহেতু মাশরাফি ও তামিম নেই, সেহেতু রিয়াদের দলে রাখা খুবই দরকার ছিল। সেটার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন আমাদের মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচকমণ্ডলী। যদিও নির্বাচকমণ্ডলীর সবাই দেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার।
বাংলাদেশ দলে যারা সুযোগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড়। তাই বলে এশিয়া কাপের মতো বিগ টুর্নামেন্টের জন্য তারা কতটা পারফেক্ট, প্রশ্ন সেখানেই। ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিবের বয়স সমান ৩৬ বছর। বাংলাদেশের মুশফিকের বয়সও ৩৬ বছর।
ভারতীয় দলে ত্রিশোর্ধ রয়েছেন রোহিত ছাড়াও আরও ছয় খেলোয়াড়। তারা হলেন সূর্যকুমার (৩২), বিরাট কোহলি (৩৪), লোকেশ রাহুল (৩১), রবীন্দ্র জাদেজা (৩৪), মোহাম্মদ শামি (৩২) ও শারদুল ঠাকুর (৩১)। ভারতের ত্রিশের নীচে যে দশজন রয়েছেন তারা হলেন; প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা (২৭), তিলক বর্মা (২০), অক্ষর প্যাটেল (২৯), শুভম্যান গিল (২৩), সাইরেস আয়ার (২৮), হার্দিক পান্ডিয়া (২৯), বুমরাহ (২৯), কুলদ্বীপ যাদব (২৮), মোহাম্মদ সিরাজ (২৯) ও ঈশান কিশান (২৫)।
বাংলাদেশের ১৭ জনের ১৫ জনের বয়স ত্রিশের নীচে। তারা হলেন; লিটন কুমার দাস (২৮), তানজীম তামিম (২২), নাজমুল হোসেন শান্ত (২৪), তৌহিদ হৃদয় (২২), মেহেদী হাসান মিরাজ (২৫), তাসকিন আহমেদ (২৮), মোস্তাফিজুর রহমান (২৭), হাসান মাহমুদ (২৩), মাহেদি হাসান (২৮), নাসুম আহমেদ (২৮), শামীম পাটোয়ারী (২২), আফিফ হোসেন (২৩), শরিফুল ইসলাম (২২), তানজিম হাসান সাকিব (২০) ও মোহাম্মদ নাইম (২৩)।
বাংলাদেশ দলের ১৭ জন খেলোয়াড়ের গড় বয়স ২৫.৭০ বছর। আর ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৯.২৩ বছর। গড় বয়সেও রয়েছে বড় ব্যবধান।
পেসার এবাদত হোসেন ইনজুরির কারনে এশিয়া কাপে খেলতে পারবেন না। তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে ২০ বছরের তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিবকে। এই রদবদলে মাহমুদউল্লাহকে জায়গা করে দিতে পারতো। তার মতো স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার দলে সুযোগ পেলে সিনিয়রদের সংখ্যা একজন বাড়তো।
এখন কথা হলো, ভারতে তো আইপিএলের সুবাদে কম খেলোয়াড় উঠে আসেনি, তবু কেন তাদের ক্রিকেট বোর্ড বড় আসরে সিনিয়রদের প্রাধান্য দেয়? তারা ওডিআই ফরম্যাটে দুই বার বিশ্বকাপ ও ছয় বার এশিয়া কাপ জিতেছে সিনিয়রদের নৈপুণ্যের সুবাদে। জিম্বাবুয়ে বা অন্য দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে তরুণদের নিয়ে দল গড়া গেলেও এশিয়া বা বিশ্ব কাপের মতো বড় আসরে সেটা করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। এটা কি বোর্ডের নির্বাচকমন্ডলী কিছুই বোঝেন না?
শুধু ভারতই নয়, পাকিস্তান দলের ১৭ জনের মধ্যে ৪ জনের বয়স ৩০ বা ৩০ এর উপরে। তবে অন্যতম প্রধান দল শ্রীলঙ্কা দলে একজনও নেই ত্রিশোর্ধ খেলোয়াড়। আসন্ন এশিয়া কাপে তাই ভারতকে টপ ফেভারিট বললে ভুল বলা হবে না। তারা ওডিআই ফরম্যাটে সপ্তমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলতে চায়।
ভারত মূলত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এশিয়া কাপে অংশ নেয়। প্রথমত: শিরোপা লাভ করা, দ্বিতীয়ত: কমপক্ষে ফাইনালে উঠা, তৃতীয়ত: টুর্নামেন্টের ফলাফল যাই হোক না কেন পাকিস্তানকে হারানো। সেখানে বাংলাদেশের প্রধাণ লক্ষ্য থাকে, প্রথমত: ফলাফল যেটাই হোক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া, দ্বিতীয়ত: কমপক্ষে একটি জয় পাওয়া, তৃতীয়ত: ভালো খেলার চেষ্টা। এইসব লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামে বলেই বাংলাদেশ তিন দফা ফাইনালে উঠলেও একটি শিরোপাও জিততে পারেনি। আর এই ধরনের লক্ষ্য থাকে বলেই যেনতেনোভাবে দল গঠণ করা হয় এশিয়া কাপের জন্য।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি