স্প্রিন্টার ইমরানুরকে নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে

বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান যেখানে বিশ্ব ১০০ মিটার স্প্রিন্টের র‌্যাংকিং ২৭৭, সেখানে ভারতের দ্রুততম মানব শিবা কুমার রয়েছেন ৫৬৮ নম্বরে। অর্থাৎ একশ’ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশের এই স্প্রিন্টারের কাছ থেকে অনেক কিছুই আশা করছে সকলেই।  

আমরা কখনো অলিম্পিক কিংবা এশিয়ান গেমস অথবা কমনওয়েলথ গেমসে স্প্রিন্টে পদক লাভ করি নাই। পদক লাভ তো দূরের কথা, সম্ভাবনাও সৃষ্টি করতে পারি নাই। এই অবস্থায় স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমানকে নিয়ে ক্রীড়ামোদীরা আশাবাদী হতেই পারেন। তার দক্ষতা ও গতি বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে তাকে আরো কার্যকর হতে হবে, গতি বাড়াতে হবে।

চলতি আগস্ট মাসেই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। বৈশ্বিক এই আসরে প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান। আসরের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে দ্যুতি ছড়িয়ে নিজের হিটে সেরা হলেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৪৫তম হন ইমরানুর। হিটে ভালো করায় দেশবাসী তাকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু প্রমাণ হলো, বড় ধরনের আসরে কাক্সিক্ষত ফলাফল পেতে তাকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, কঠোর অনুশীলন করতে হবে। তবে এটা ঠিক, তার মাধ্যমে বাংলাদেশ পেতে পারে অনেক সম্মান।  

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের চেয়ে ভালো টাইমিং করেও পেরে উঠলেন না বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে গত ১৯ আগস্ট সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৬ নম্বর হিটে অংশ নেন ইমরানুর। ১০.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের হিটে সপ্তম হন তিনি। সেমিফাইনালে ওঠা ২৪ প্রতিযোগীর মধ্যে সবশেষ জনের টাইমিং ১০.২০ সেকেন্ড। এরআগে সকালের সেশনে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ৩ নম্বর হিটে ১০ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে দৌড় শেষ করেন ইমরানুর। বাংলাদেশের ইতিহাসে অবশ্য প্রিলিমিনারি রাউন্ডে ইমরানুরের চেয়ে ভালো করার রেকর্ড অন্য কারো নেই।

বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান বিদেশের মাটিতে ইতিমধ্যে লাল-সবুজ পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন কয়েকবার। এই বছরের শুরুতে ইমরান কাজাখস্তানে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটারে স্বর্ণ জিতে চমক সৃষ্টি করেন। তিনি গত বছর আমেরিকার ওরিকনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি এক ধাপ উতরে অংশ নিয়েছিলেন পরের ধাপে। এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ৬০ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও দূর্ভাগ্যক্রমে ফাইনাল খেলা হয়নি ইমরানুরের। তিনি সুইজারল্যান্ডের এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশের হয়ে অংশ নেওয়া ৪০ প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি এই অবস্থান অর্জন করেন। ১০০ মিটার ইভেন্টে ইমরান ১০.৩৮ সেকেন্ড টাইমিংয়ে তৃতীয় হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের অ্যাথলেট ১০.৩৭ সেকেন্ড টাইমিং করে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয়। ইমরান ০.০১ সেকেন্ড পেছনে থেকে তৃতীয় হয়েছেন। গত বছর তুরস্কে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নেন ইমরানুর। সেখানে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। এইসব সাফল্যে অলিম্পিকের জন্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে তৈরি হচ্ছে ইমরানুর।

সরাসির অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ইমরানুর বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অনুশীলন করছি। আমার সেরা টাইমিংটা করতে চাই। এমন কিছু করতে চাই যেটা এর আগে বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেট করতে পারেনি। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে দৌড়াতে চাই এবং নিজের সেরা টাইমিং ভেঙে রেকর্ড করতে চাই।’

বাংলাদেশের দ্রুততম মানব গত ১১ ফেব্রুয়ারি কাজাখস্তানে ৬০ মিটারে সোনা জেতার পর পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়ে এশিয়ান অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের র‌্যাঙ্কিংয়েও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে কোনো বাংলাদেশি অ্যাথলেটের নাম। ৬০ মিটার স্প্রিন্টের র‌্যাঙ্কিংয়ে যুগ্মভাবে শীর্ষে আছেন ইমরানুর। তার সঙ্গে শীর্ষে রয়েছেন জাপানের অ্যাথলেট সুহেই তাদা ও চীনের বিংতিয়ান সু।

২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন হঠাৎ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ইমরানুরকে লন্ডন থেকে ঢাকায় আনে। ইমরানুর আমাদের দেশের তরুণদের জন্য হবে রোল মডেল। তাকে দেখে অনেকেই এবার অ্যাথলেটিকসে আসতে আগ্রহী হবে। ইমরানুরের মাধ্যমে দেশের অ্যাথলেটিকস নতুন করে জেগে উঠবে বলে সকলের বিশ্বাস। আচারীতে রোমান সানার পর আরও একবার সরাসরি অলিম্পিকের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে স্প্রিন্টার ইমরানুরের হাত ধরে।

অলিম্পিকে অবশ্য চোখ রয়েছে ইমরানুরের। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দৌড়ালেন তিনি। অলিম্পিকের আগে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের লক্ষ্যে নামবেন ইমরানুর। এরজন্য যতটুকু অনুশীলন করছেন, সেটা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে, সেখানে কি তার অনুশীনের মাত্রা বাড়াতে হবে কিনা, অনুশীলনের ভেন্যু পরিবর্তন করতে হবে কিনা, কোচ পরিবর্তন করতে হবে কিনা, বিষয়গুলো নিয়ে ভারতে হবে ফেডারেশনকে। তাকে যদি আরো গতিশীল ও উপযুক্ত করে তোলা হয়, তাহলে তার কাছ থেকে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ইমরানুরের প্রতিভা রয়েছে, যা অনেক দেশের স্প্রিন্টারদের নেই। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads