৪০ ভাগ নষ্ট কিডনি নিয়েই ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন ক্যামেরন গ্রিন

খেলার মাঠে ভালো খেলে জনপ্রিয়তা লাভ করে খেলোয়াড়রা। তবে তাদের শিশু কালের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে হয়তো কেউই জানিনা। যেমন বর্তমান সময়ে তরুণ অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন হলো ক্যামেরন গ্রিন। তিন ফর্মেটেই দুর্দান্ত পরফরম করে নজর কেঁড়েছেন তিনি। তবে তার জীবনের গল্পটায় অনেকটাই কাল্পনিক।

মা বি ট্রাচির গর্ভে থাকতেই ধরা পড়েছিল ক্রনিক কিডনির (সিকেডি) রোগ। বিশ্বে সবচেয়ে বড় ত্রাস এই সিকেডি। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন এই সন্তান জন্মালে ১২ বছরের বেশি বাঁচবে না। জন্মের পরেই ধরা পড়ে কিডনির অসুখ বিপদসীমা পার করে ফেলেছে। সদ্যোজাত শিশুকে তুলোয় জড়িয়ে বড় করেন বাবা-মা। ক্রিকেট শেখান। সেই ছেলেই এখন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। 

অদম্য মনের জোর ও জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ক্রনিক কিডনির অসুখকে দমিয়ে রেখেছে। সেকেন্ড স্টেজে পৌঁছেও ২২ গজের রাজা ক্যামেরন। পঞ্চম স্টেজই নাকি চ্যালেঞ্জ। ওই পর্যায় থেকে কিডনি বিকল হওয়া শুরু হবে। তখন ডায়ালিসিস ছাড়া গতি নেই। ধীরে ধীরে সেই প্রক্রিয়াও ফেল করতে থাকবে। তখন কিডনি প্রতিস্থাপনই একমাত্র পথ। তবে অন্তিম পর্যায় নিয়ে ভাবছেন না ক্যামেরন। কিডনির মারণ অসুখ নিয়েই মাঠে দৌড়ে, ছুটে খেলছেন তিনি। দেশকে জেতাচ্ছেনও। মাত্র ২৪ বছরেই মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠেছেন ক্যামেরন।

লড়াইটা সেদিন থেকেই শুরু হয় বাবা গ্যারি ও মা ট্রাচির। ছেলেকে মৃত্যুভয় পেতে দেননি বাবা-মা। বরং ছোট থেকেই ধেলাধূলায় অভ্যস্ত করেছেন। ক্রিকেট খেলায় ছোট থেকেই আগ্রহ ছিল ক্যামেরনের। তার অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ছিল দেখার মতো। সেই ছেলেই জাতীয় দলে সুযোগ পায় ও একদিন বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে। সূত্র: দ্য ওয়াল

২৪ বছরের ক্যামেরন যখন ২২ গজের লড়াইয়ে নামেন তখন শরীরের এই প্রতিবন্ধকতা ভুলে যান। লড়াইটা তখন আর শরীরের সঙ্গে নয়, লড়াইটা হয় দেশকে জেতানোর জন্য। আর তাতেই যে মনোবল তিনি পান তা মারণ রোগকেও দমিয়ে রাখতে পারে। রেখেওছে টানা ২৪ বছর। আয়ু আর কতদিন জানা নেই অজি ক্রিকেটারের। তবে এখনও তিনি খেলতে চান। ক্যামেরন বলেছেন, কিডনি এখনও ৬০ শতাংশ সচল আছে। আমি ভাগ্যবান এখনও অনেকদিন খেলতে পারব।

Walton Ads