ক্রিকেটে ২০২৩ সাল ছিলো অস্ট্রেলিয়ার, নারী-পুরুষদের বিশ্বকাপে হেক্সা জয় ছিলো আলোচনায়

 ২০২৩ সাল ছিলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘটনাবহুল একটা বছর। যার পুরোটা নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ছেলেদের অ্যাশেজ, টেস্ট চ্যাম্পিয়ন্সশিপ আর বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে অজিরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের জন্য হতাশার, আফগানিস্তানের উত্থান।


বছরজুড়ে মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বীরত্বগাঁথা। শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে, স্বাগতিকদের হতাশায় ভাসিয়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তোলে ম্যাগ লেনিংয়ের দল।

ছেলেরা আরও একধাপ এগিয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ এ অ্যাশেজ ড্র করে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে অজিরা। ভারতকে হারিয়ে দখলে নেয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও। আর বছরের শেষটাতো স্বপ্নের মত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতকে কাঁদিয়ে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বছরের সেরা তিন সাফল্যই বিদেশের মাটিতে। অজিরা দেখিয়েছে কিভাবে বিরুদ্ধ কন্ডিশন জয় করতে হয়।

শুধু দল হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও অস্ট্রেলিয়ানদের রাজত্ব। সবাইকে ছাড়িয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য কীর্তি। বিশ্বকাপের সে ডাবল সেঞ্চুরি কখনই কি ভুলতে পারবে ক্রিকেটপ্রেমিরা?

ট্রাভিস হেডও কম কিসে। দলের মত বছরটা তারও। ইনজুরিতে টুর্নামেন্টের শুরুতে খেলতে না পারা ব্যাটার বিশ্বজয়ের নায়ক। অ্যাশেজ দিয়েই আসেন লাইমলাইটে। আইপিএল এ রেকর্ড প্রায় ২৫ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছেন মিচেল স্টার্ক।

স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়েছে ভারত। টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত দলটার ফাইনালে হার মানতে পারেনি ভারতীয়রা। বিরাট কোহলি ও মোহাম্মদ শামির জন্য আরও কষ্টের। টুর্নামেন্ট সেরা স্কোরার কোহলি শচীনের রেকর্ড ভেঙ্গে ৫০তম সেঞ্চুরি তোলেন বিশ্বকাপে। শামি টুর্নামেন্টের সেরা উইকেটশিকারী।
ভারতের স্বান্তনা বলতে, এশিয়া কাপের শিরোপা। বহু নাটকের পর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেলের টুর্নামেন্ট। ঝড় বৃষ্টি ছাপিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আধিপত্য দেখায় রোহিত শর্মার দল। ফাইনালে লঙ্কানদের উড়িয়ে দেয়, মোহাম্মদ সিরাজের রেকর্ডময় বোলিংয়ে।

বিশ্বআসরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের হতাশা অব্যাহত। ২০২৩ দেখেছে ইংল্যান্ডের পতন। ব্যর্থ পাকিস্তানও। কোচ, অধিনায়ক বদল করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। একের পর এক ব্যর্থতা ছাপিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে। তবে চমকে দিয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বকাপে আফগানরা জিতেছে ৪ ম্যাচ।

সবচেয়ে বেশি ওয়ানডের বছরে দুঃখগাঁথায় ভরা দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। খেলতে পারেনি বিশ্বকাপ। জিম্বাবুয়েরও একই হাল। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও হবে তাদের ছাড়া। যেখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে উগান্ডা।

২০২৩ সালে প্রথমবারের মত যাত্রা শুর হয় নারীদের আইপিএল। প্রথমবারের মত ২০২৮ অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেট। এমন আরও বহু গল্প নিয়ে অপেক্ষায় নতুন বছর।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads