ইসরায়েলের পক্ষে কথা বলায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নেতৃত্ব হারালেন টিগার

অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা খেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দলটির অধিনায়ক ডেভিড টিগারকে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে করা বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণেই এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন টিগার। যার জেরে বিশ্বকাপে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগেভাগেই তাকে সরিয়ে দিল সিএসএ। তবে ১৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার দলের সঙ্গেই থাকবেন এবং বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য বিবেচিত হবেন।

গত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রোটিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল টিগারকে। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু গত বছর অক্টোবরে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জুয়িশ অ্যাচিভার অ্যায়ার্ডস' অনুষ্ঠানে রাইজিং স্টার পুরস্কার গ্রহণ করে ইসরায়েলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।  

সেদিন নিজের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, গেুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমি এই পুরস্কার পেয়েছি এবং আমি এখন উদীয়মান তারকা। কিন্তু সত্যিকারের উদীয়মান তারকা হচ্ছে ইসরায়েলের তরুণ সৈন্যরা। তাই আমি এই পুরস্কার ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং তার জন্য লড়াইরত সৈন্যদের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি। 

তিন সপ্তাহ পর, প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যালাইয়েন্স (পিএসএ)  এর পক্ষ থেকে সিএসএ-এর কাছে টিগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, টিগারের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং উসকানিমূলক। তবে পরে নিরপেক্ষ তদন্তের পর টিগারকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় সিএসএ এবং তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে টিগারের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।  

টিগারকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানাতে সিএসএ যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবাদ দেখা যেতে পারে, এমন খবর পেয়েছি আমরা। তাছাড়া আসরে টিগারের অবস্থানের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। কারণ সে যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছে, তার পরিমাণ ভয়ঙ্কর হতে পারে, এমনকি যেকোনো মুহূর্তে অশান্তির কারণ হতে পারে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads