চলমান ইংল্যান্ড সফরের চতুর্থ টেস্টেও টস ভাগ্য মুখ তুলে তাকাল না ভারতের নতুন টেস্ট অধিনায়ক শুবমান গিলের দিকে। টানা চারটি টেস্টে টস হারলেন গিল, আর ভারতের টস না জেতার রেকর্ড গড়ল ১৪ ম্যাচে।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস আবারও টসে জিতে নেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ভারতের অধিনায়কত্বে এটি গিলের টানা চতুর্থ টস হার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে এখনও একটি টসও জিততে পারেননি তিনি।
এই বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ভারতের এটি ছিল টানা ১৪তম টস হার। এতবার টস হারা অত্যন্ত বিরল ঘটনা, যার সম্ভাবনা মাত্র ০.০০০০৬১ শতাংশ বা এক ইন ১৬,৩৮৪ বার বলে জানিয়েছে উইজডেন।
শুধু পুরুষ দলের নয়, ভারতের নারী দলও সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে টানা সাতটি টস হেরেছিল। শেষ ম্যাচে, অর্থাৎ ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত একদিনের ম্যাচে তারা টস জিতে সেই লজ্জা কিছুটা ঘোচাতে পেরেছিল।
ভারতের পুরুষ দল সর্বশেষ টস জিতেছিল জানুয়ারি ২৮ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। সেই ম্যাচে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি।
ইংল্যান্ড তখন ১৭১ রান করে, আর ভারত মাত্র ১৪৫ রানেই থেমে যায়। এর পর থেকেই শুরু হয় ভারতের টস হারার এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতা।
সূর্যকুমার যাদবের পর অধিনায়কত্ব পান রোহিত শর্মা, যিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে টস হারেন এবং পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একই ঘটনা ঘটে।
পরে টেস্ট দায়িত্ব পান শুবমান গিল। কিন্তু তিনিও টস ভাগ্য বদলাতে পারেননি। হেডিংলি, এজবাস্টন, লর্ডস এবং সর্বশেষ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পরপর চার ম্যাচে টস হেরে বসলেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে এর আগে শুধু চারটি দল টানা ১০টির বেশি টস হেরেছে— ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯৯৯), ইংল্যান্ড (২০২২-২৩), নিউজিল্যান্ড (১৯৭২-৭৩) এবং ভানুয়াটু (২০২৩-২৪)। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ভারতও।
টস এমনিতেই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে। তাই টস হারাটা কৌশলগত দিক থেকে কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি করে দলের জন্য।
গিলের জন্য এটি যেমন অধিনায়ক হিসেবে আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে, তেমনি দলের জন্যও এটি এক ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এখন ভারতের লক্ষ্য শুধু টস জেতা নয়, এই ধারাবাহিকতাকে ভেঙে ফেরা।
টানা ১৪টি টস হারের পর এবার দেখা যাক, শেষ ম্যাচে ভাগ্য কীভাবে সাড়া দেয় ভারতীয়দের ডাকে।