অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার হাই-স্কোরিং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দারুণ উত্তেজনার পর তিন উইকেটে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০৬ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বিপদে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন ক্যামেরন গ্রিন।
এই জয়ের মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অজিরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়ার্নার পার্কে, যেখানে দুই দলই ব্যাট হাতে আগ্রাসী ছিল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও ২০০-র বেশি রান করেও জয়ের দেখা পেল না।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২০৫ রান ৯ উইকেট হারিয়ে। ইনিংসের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। ব্র্যান্ডন কিং ১০ বলে ১৮ ও শাই হোপ ৯ বলে ১০ রান করে দ্রুত ফিরে যান। দুজনকেই ফিরিয়ে দেন জেভিয়ার বার্টলেট।
তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শারফেন রাদারফোর্ড দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তিনি মাত্র ১৫ বলে ৩১ রান করেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে হঠাৎ ধস নামে। শিমরন হেটমায়ার ও রোমারিও শেফার্ড দ্রুত ফিরে যান।
১৫তম ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ১৫৩/৭। তবে শেষদিকে জেসন হোল্ডার ১৬ বলে ২৬ ও ম্যাথিউ ফোর্ড ১৩ রান করে কিছুটা লড়াই এনে দেন। এর ফলে দলীয় স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ২০৫ পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অ্যাডাম জাম্পা ৫৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন, যদিও ছিলেন খরুচে। শন অ্যাবট ৬১ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। তবে অ্যারন হার্ডি (২/২৪) এবং বার্টলেট (২/৩৯) তুলনামূলক সাশ্রয়ী বোলিং করেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। অধিনায়ক মিচেল মার্শ গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরে যান। তখনই চাপে পড়ে যায় সফরকারী দল। তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় ম্যাক্সওয়েল ও ইংলিসের জুটি।
ম্যাক্সওয়েল খেলেন বিস্ফোরক ইনিংস—মাত্র ১৮ বলে ৪৭ রান, যাতে ছিল ছয়টি বিশাল ছয়। অপরদিকে জশ ইংলিস আরও নিয়ন্ত্রিত খেলেন, ৩০ বলে ৫১ রান করেন তিনি, মারেন ১০টি চার।
এই দুই ব্যাটারের ৬৬ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া। তবে হঠাৎ করেই আবার বিপর্যয় নামে। স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ১৩৪/৫। তখন থেকেই ম্যাচ চলে যায় সমানতালে।
এই সময় মাঠে নামেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁর ৩৫ বলে ৫৫ রানের ধীরস্থির ইনিংস দলকে ম্যাচে রাখে। তাঁকে সঙ্গ দেন অ্যারন হার্ডি, যিনি করেন ১৬ বলে ২৩ রান। তাঁদের ৫১ রানের জুটি জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন জেডিয়া ব্লেডস, যিনি ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তিনি একপর্যায়ে মার্শ, ওয়েন এবং কনোলিকে ফিরিয়ে অজি ব্যাটিংয়ে ধস নামান।
তবে ১৯তম ওভারে একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোমারিও শেফার্ড ক্যামেরন গ্রিনের একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন, তখন গ্রিনের সংগ্রহ ছিল ৫৩ রান। এই ভুলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শেষদিকে শন অ্যাবট ১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন এবং গ্রিনের সঙ্গে মিলে দলকে জয় এনে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে হোসেইন ও হোল্ডার একটি করে উইকেট নিলেও অজিদের রুখে দিতে ব্যর্থ হন।
এই ম্যাচ আবারও দেখিয়ে দিল, ২০০ রানের স্কোর করলেও বোলিং ভালো না হলে তা ধরে রাখা যায় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে সেটাই আবার ঘটল, যা সিরিজ জুড়ে তাদের দুর্বল দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়ে দিল, চাপের মুখেও ধৈর্য ও পরিকল্পনা নিয়ে খেললে জেতা সম্ভব। ক্যামেরন গ্রিনের ইনিংস তাই শুধু রান নয়, মানসিক দৃঢ়তারও প্রতীক হয়ে থাকল।