এশিয়া কাপ ২০২৫ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দলের সহ-অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাদাব খান সম্ভবত এই আসরে খেলতে পারবেন না। কাঁধের পুরনো চোট নতুন করে সমস্যা তৈরি করেছে।

এই বছরের এশিয়া কাপ হবে হাইব্রিড মডেলে, যার মূল আয়োজক দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নির্ধারিত হয়েছে। এ তথ্য ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান মোহসিন নাকভি। ঢাকায় এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তবে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তান দলে এই দুঃসংবাদ এসেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) জানিয়েছে, শাদাব খান বর্তমানে কাঁধের সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শাদাব খুব শিগগিরই লন্ডনে যাবেন চিকিৎসার জন্য। তাঁর অস্ত্রোপচারের পর পুনরুদ্ধারের জন্য প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। ফলে তিনি এশিয়া কাপ মিস করতে যাচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

২৬ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি এখন পর্যন্ত ৬টি টেস্ট, ৭০টি ওয়ানডে এবং ১১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিলেন তিনি, যেখানে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। তবে সেই সিরিজের পরপরই চোটের কারণে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাদা বলের সিরিজ থেকে ছিটকে যান।

পিসিবির একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, “যদি এশিয়া কাপ সেপ্টেম্বরেই হয়, তাহলে শাদাব সেই টুর্নামেন্টও মিস করবেন।” এর ফলে পাকিস্তানের সেরা একাদশ গঠনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে এই অনুপস্থিতি।

শাদাব খানের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ তিনি একজন দক্ষ লেগ স্পিনার এবং পাশাপাশি দলের মিডল অর্ডারে একজন কার্যকর ব্যাটার।

অন্যদিকে এশিয়া কাপ ২০২৫ নিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আট দলের এই টুর্নামেন্টে দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা হবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে সুপার ফোরে, এরপর ফাইনাল হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।

এই আসরের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান লড়াই, যা নির্ধারিত হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর। দুই দল ভালো পারফর্ম করলে গ্রুপ পর্ব ছাড়াও সুপার ফোর ও ফাইনালেও মুখোমুখি হতে পারে।

এশিয়া কাপ প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে এবং এটি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। এই বছর হবে এশিয়া কাপের ১৭তম আসর। ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অঞ্চলে এই প্রতিযোগিতা বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়।

পাকিস্তান দল এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে চায়, বিশেষ করে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে। তবে শাদাব খানের না থাকা তাদের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই মুহূর্তে পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। দলে ইয়াসির শাহ কিংবা উসমান মিরের মতো স্পিনারদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শাদাবের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের অভাব পূরণ করা সহজ হবে না।

অন্যদিকে ভক্তদের মধ্যেও হতাশা দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কামনা করছেন, শাদাব দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরবেন। কারণ তাঁর অভিজ্ঞতা বড় ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের জন্য বারবার কাজে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত শাদাব যদি এশিয়া কাপ মিস করেন, তাহলে পরবর্তী লক্ষ্য হবে অক্টোবরের বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২5। তার আগে সম্পূর্ণভাবে ফিট হওয়াই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।

এশিয়া কাপের দলে শাদাবের জায়গায় কাকে নেয়া হবে, সেটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচক কমিটি। তবে এতদিন দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাদাবের অভাব টের পাওয়া যাবে, এটা একরকম নিশ্চিত।

Walton Ads