চার বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে জাতীয় দলে ফিরে এক বিশাল রেকর্ড গড়ে ফেললেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও উইকেটকিপার ব্রেন্ডন টেইলর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারধারী অ্যাকটিভ ক্রিকেটার হয়ে গেছেন। এ পথে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকেও।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কামব্যাক টেস্টে ব্রেন্ডন টেইলরের রেকর্ড গড়া ফেরা
২০১৯ সালে ভারতে সফরকালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ ও উপহার গ্রহণ এবং বিষয়টি আইসিসিকে সময়মতো না জানানোর দায়ে ৩.৫ বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। শেষবার তিনি খেলেছিলেন ২০২১ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এবার তিনি দলে ফিরেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজে, যেখানে প্রথম টেস্টে ড্রেসিংরুমে দলের পাশে ছিলেন, আর দ্বিতীয় টেস্টে সরাসরি মাঠে নেমেছেন।
সবচেয়ে দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে অ্যাকটিভ ক্রিকেটার এখন টেইলর
২০০৪ সালের ৬ মে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ব্রেন্ডন টেইলরের। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর ৯৩ দিন। এই সময়সীমা তাকে পৌঁছে দিয়েছে সবচেয়ে দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারধারী বর্তমান খেলোয়াড়দের শীর্ষে।
তিনি পেছনে ফেলেছেন জেমস অ্যান্ডারসনকে, যিনি ২০০৩ সালে টেস্ট অভিষেক করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছেন। তার ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য ছিল ২১ বছর ৫১ দিন।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন বলেন,
“ও ড্রেসিংরুমে দারুণ পরিবেশ এনেছে। প্রথম টেস্টেও সে ছিল আমাদের সঙ্গে। অনেক অভিজ্ঞতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।”
সবচেয়ে দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ার (এক নজরে)
| নাম | দেশ | সময়কাল | ক্যারিয়ার দৈর্ঘ্য |
|---|---|---|---|
| উইলফ্রেড রোডস | ইংল্যান্ড | 1899–1930 | 30 বছর 315 দিন |
| ব্রায়ান ক্লোজ | ইংল্যান্ড | 1949–1976 | 26 বছর 356 দিন |
| শচীন টেন্ডুলকার | ভারত | 1989–2013 | 24 বছর 1 দিন |
| ব্রেন্ডন টেইলর | জিম্বাবুয়ে | 2004–2025 | 21 বছর 93 দিন |
| জেমস অ্যান্ডারসন | ইংল্যান্ড | 2003–2024 | 21 বছর 51 দিন |
১০ হাজার রানের মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে ব্রেন্ডন টেইলর
টেইলরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন ৯,৯৩৮ রানে থেমে আছে। আর মাত্র ৬২ রান করতে পারলেই তিনি পৌঁছে যাবেন ১০ হাজার রানের ক্লাবে।
জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে কেবল দুইজন ব্যাটার এই কীর্তি গড়েছেন—অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (১১,৫৮০ রান) এবং গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার (১০,০২৮ রান)। এবার টেইলরও সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।
তিনি এরইমধ্যে টেস্টে করেছেন ২,৩২০ রান, ওয়ানডেতে ৬,৬৮৪ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৯৩৪ রান। রয়েছে ১৭টি শতক ও ৫৭টি অর্ধশতক।
চার বছরের নিষেধাজ্ঞা, মানসিক চাপ আর অনুশোচনার পাহাড়—সবকিছুকে পেছনে ফেলে ব্রেন্ডন টেইলর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন রেকর্ড গড়ার অভিপ্রায় নিয়ে। এই কামব্যাক শুধু জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য নয়, গোটা ক্রিকেটবিশ্বের জন্যই একটি অনুপ্রেরণার গল্প।