ভারতের গুজরাতের জুনাগড়ে জন্ম হলেও পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের হয়ে বিশ্বক্রীড়া কাঁপানো চার ভাইয়ের কাহিনী সত্যিই চমকপ্রদ। এই চার ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন হানিফ মহম্মদ, যাকে ‘লিটল মাস্টার’ বলা হয়। তিনি পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেট তারকা, এবং তার ছেলে ও নাতিও ক্রিকেটার।

হানিফের প্রথম কোচ একজন হিন্দু ছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন, “দেশভাগ না হতো, তাহলে ক্রিকেট বিশ্বে ভারতই শাসন করত।” ১৯৭৮ সালে সুনীল গাভাস্কার হানিফের বাড়ি গিয়ে তাঁকে দেখার সুযোগ পান। গাভাস্কার বলেন, “হানিফকে খেলতে না দেখলেও তাঁর ব্যাটিংয়ের গল্প আমাকে প্রভাবিত করেছে।”

হানিফের মোট ছয় ভাই ছিলেন, যার মধ্যে একজন অল্প বয়সে মারা যান। দেশভাগের সময় হানিফের পরিবার পাকিস্তানে চলে যায়। প্রথমে করাচিতে তারা একটি মন্দিরে আশ্রয় নেয়, এরপর ধীরে ধীরে পরিবার অবস্থার উন্নতি করে। হানিফ ও তার ভাইরা ক্রিকেটে নামার পর পরিবার সারা পাকিস্তানে পরিচিতি পায়।

হানিফ ও তার ভাইদের বাবা ক্লাব ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৪৮ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও ছেলে-মেয়েরা বাবার স্বপ্ন পূরণ করেন। হানিফ, মুশতাক, সাদিক, ওয়াজির—এই চার ভাই পাকিস্তানের জাতীয় দলে খেলেছেন। কমপক্ষে ৬৪ ম্যাচে দুই ভাই একসঙ্গে মাঠে নেমেছেন।

মা ভারতের ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন
সব ভাইকে ক্রিকেটে সফল করার কৃতিত্ব তাদের মা আমির বি-কে। বাবা মারা যাওয়ার পর মা ছেলেদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার এগিয়ে নেন। তিনি ছিলেন ভারতের জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ও আঞ্চলিক টেবিল টেনিস খেলোয়াড়।

টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘতম ইনিংসের রেকর্ড
১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হানিফ মহম্মদ খেলেছেন ৯৭০ মিনিটের ৩৭৭ রানের ইনিংস, যা টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস হিসেবে ইতিহাসে রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের হয়ে চার ভাইয়ের রেকর্ড

হানিফ মহম্মদ: ৫৫টি টেস্ট, ৩৯১৫ রান, ১২ সেঞ্চুরি, ১৫ হাফ সেঞ্চুরি, ২৩৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ।

মুশতাক মহম্মদ: ৫৭টি টেস্ট, ১০টি ওয়ানডে, ৩৬৪৩ রান, ১০ সেঞ্চুরি, ১৯ হাফ সেঞ্চুরি, ৭৯ উইকেট।

সাদিক মহম্মদ: ৪১টি টেস্ট, ১৯ ওয়ানডে, ২৫৭৯ রান, ৫ সেঞ্চুরি, ১০ হাফ সেঞ্চুরি।

ওয়াজির মহম্মদ: পাকিস্তানের জাতীয় দলে খেলে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

হানিফ মহম্মদের উত্তরাধিকার
হানিফের ছেলে শোয়েব মহম্মদ পাকিস্তানের হয়ে ৪৫টি টেস্ট ও ৬৩টি ওয়ানডে খেলেছেন। হানিফের নাতি শেহজার মহম্মদও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন।

এই চার ভাইয়ের কাহিনী শুধু ক্রিকেট ইতিহাস নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান ভাগাভাগির পরও ক্রীড়াজগতের সীমা অতিক্রম করা এক অসাধারণ গল্প।

 

Walton Ads